রাজধানীর বিজয় সরণিতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভাস্কর্যসহ ‘মৃত্যুঞ্জয়ী প্রাঙ্গণ’ -এর অবশিষ্ট স্মারক ম্যুরাল উপড়ে ফেলা হয়েছে। এখানে জুলাই আন্দোলনের স্মারক ‘গণমিনার’ করা হবে, যা ৫ আগস্টের আগেই সম্পন্ন হবে বলে জানা গেছে।
ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত দুইটা থেকে ম্যুরালের অবশিষ্ট অংশ ভাঙ্গা শুরু করে।
শুক্রবার বিকেলে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ‘মৃত্যুঞ্জয়ী প্রাঙ্গণ’-এর পুরো চত্বর কাজের সুবিধার্থে কাপড় দিয়ে ঘিরে রাখা হয়েছে। সেখানকার বিভিন্ন খননজনিত কাজের জন্য একটি এক্সক্যাভেটর (খননযন্ত্র) রাখা হয়েছে। নিমার্ণ শ্রমিকরা সেখানকার টাইলস উত্তোলনসহ অন্যান্য কাজ করছেন। এছাড়াও চত্বরে বেশকিছু রড উপড়ে পাশে স্তুপ করে রাখা হয়েছে। তবে সেখানে নির্মাণ শ্রমিক বাদে সিটি করপোরেশন বা অন্যান্য সংস্থার কাউকে দেখা যায়নি।
কর্মরত এক শ্রমিক টাইমস অব বাংলাদেশকে বলেন, ‘রাত দুইটা থেকে কাজ শুরু হয়েছে। আমরা দুপুরের পরে কাজে যোগ দিয়েছি।’
বিষয়টি জানতে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসকসহ অন্যান্য কর্মকর্তাদের ফোন করা হলে কেউ সাড়া দেননি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তা টাইমস অব বাংলাদেশক বলেন, ‘বৃহস্পতিবার রাত থেকে এই কর্মযজ্ঞ শুরু হয়েছে। করপোরেশনের একটি বোর্ড মিটিংয়ে আগেই আলোচনা হয়েছিল যে, এইখানে নতুন করে জুলাই অভ্যুত্থান কেন্দ্রিক একটি ম্যুরাল তৈরি করা হবে। তবে কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তির ম্যুরাল হবে কি না তা জানা যায়নি।’
২০২৩ সালের ১০ নভেম্বর ঢাকার বিজয় সরণিতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভাস্কর্য ঘিরে তৈরি ‘মৃত্যুঞ্জয়ী প্রাঙ্গণ’ উদ্বোধন করেন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
এই প্রাঙ্গণের কেন্দ্রস্থলে স্থাপন করা হয় জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ‘মৃত্যুঞ্জয়ী’ নামে একটি ভাস্কর্য। এর চারপাশে সাতটি দেওয়ালে আঁকা হয় মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসের স্মারক ম্যুরাল। এই চিত্রগুলো তৈরি করা হয়েছিল বাংলাদেশের ইতিহাস, ভাষা আন্দোলন, মুক্তিযুদ্ধসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা তুলে ধরার জন্য।
গত ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর ‘মৃত্যুঞ্জয়ী’ ম্যুরালটি বিক্ষোভকারীরা ভেঙে ফেলে এবং পরে এটি উপড়ে ফেলা হয়। এখন সে স্থানটিতে চলছে পরিস্কার-পরিচ্ছন্নের কাজ। যার অংশ হিসেবে সরিয়ে ফেলা হচ্ছে ভাস্কর্য ও স্মারক ম্যুরালের সব কিছু।


