ঢাকার মিরপুরের রূপনগরের শিয়ালবাড়িতে রাসায়নিক গুদামে লাগা অগ্নিকাণ্ডের ঘটনাস্থল বুধবার দুপুরে অধ্যাপক ইয়াসির আরাফাতের নেতৃত্বে বুয়েটের বিশেষজ্ঞ দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। এছাড়া ফায়ার সার্ভিসের ‘হ্যাজমেট টিম’ দুর্ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে।
এদিকে, অগ্নিকাণ্ডে ঘটনাস্থলে থেকে কালো রঙের ধোঁয়ার কুণ্ডুলি ও রাসায়নিক ঝাঁঝালো গ্যাস আশেপাশের এলাকায় বাতাসে ছড়িয়ে পড়েছে।
সরেজমিনের দ্য টাইমস অব বাংলাদেশের প্রতিনিধি জানিয়েছেন, এতে আশেপাশের পোশাক কারখানার অনেক শ্রমিক অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। বেশ কয়েকজনকে হাসপাতালেও নিতে হয়েছে।

তবে দাবির মুখেও কারখানাগুলো খোলা রাখায় শ্রমিকরা রাস্তায় নেমে এসে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তারা জানান, ঝাঁঝালো বাতাসে শ্বাস নালীতে জ্বালাপোড়া, চোখও জ্বলছে।
এদিকে, পোড়া কারখানার সামনে ছেলের ছবি হাতে মনিরুল ইসলাম নামে এক বৃদ্ধ পিতাকে ঘুরতে দেখা গেছে। তিনি জানান, দুর্ঘটনার পর থেকেই ছেলে খালিদ হাসান সাব্বির নিখোঁজ। হাসপাতালে ঘুরেও তার সন্ধান পাননি। ঘটনার পর তার মোবাইলে রিং হলেও পরে তা বন্ধ হয়ে যায়।
নিখোঁজদের সন্ধানে সেখানে জড়ো হয়েছেন দিশাহারা স্বজনরা। কেমিকেল গুদাম ও ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে দেখা গেছে, স্বজন হারিয়ে কেউ শোক বিহ্বল হয়ে বসে আছেন, কেউবা ভেঙে পড়েছেন আহাজারিতে। ঘটনাস্থলে ভিড় জমাচ্ছেন উৎসুক জনতা।
১৬ জনের মৃত্যু আগুনে পুড়ে, ১০ জন শনাক্ত
মিরপুরের ওই অগ্নিকাণ্ডে ১৬ জনের মৃত্যু বিষাক্ত গ্যাসে হয়নি বলে জানিয়েছেন ঢামেক হাসাপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান।
ঢামেক পরিচালক বলেন, বিষাক্ত গ্যাসে নয়, আগুনে পুড়েই মারা গেছেন মিরপুরের গার্মেন্টসের ১৬ জন। ডিএনএ নমুনা সংগ্রহের পর দাবিদারদের কাছে মরদেহ হস্তান্তর করা হবে।
তিনি জানান, এ পর্যন্ত ১০ জন দাবিদার প্রাথমিকভাবে মরদেহের পরিচয় শনাক্ত করেছেন। প্রশাসন চাইলে পরিবারের কাছে মরদেহগুলো হস্তান্তর করতে পারে।

যেভাবে ঘটনার সূত্রপাত
মঙ্গলবার দুপুর পৌনে বারোটার দিকে ওই গোডাউনে আগুন লাগে। পরে আগুন ছড়িয়ে পড়ে পাশের পোশাক কারখানায়। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১৬ জনে পৌঁছেছে। আরও কয়েকজন দগ্ধ হয়েছেন বলে জানিয়েছে ফায়ার সার্ভিস।

আহতদের জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়। নিহতদের মরদেহ ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয় বলে জানান ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের পরিচালক (অপারেশন ও মেইনটেন্যান্স) মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম চৌধুরী।
তিনি বলেন, ‘মরদেহগুলোর অবস্থা এতটাই ভয়াবহ যে, ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে শনাক্ত না করলে তাদের চেনা সম্ভব নয়।’


