কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলার পালংখালী সীমান্তসংলগ্ন নাফ নদীর ওপারে মিয়ানমারের অভ্যন্তরে পুঁতে রাখা ল্যান্ডমাইন বিস্ফোরণে এক রোহিঙ্গা যুবক গুরুতর আহত হয়েছেন। আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে কুতুপালং এমএসএফ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
গত ২১ দিনে সীমান্ত এলাকায় এর মধ্যেই অন্তত পাঁচটি বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে।
রোববার (১৯ এপ্রিল) সকাল ৯টার দিকে বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তের বিআরএম-১৯ পিলার সংলগ্ন মিয়ানমারের চাকমাকাটা এলাকার শূন্যরেখায় এ ঘটনা ঘটে।
আহত মো. সাদেক ওরফে হামিদ (২৭) উখিয়ার ক্যাম্প-১০-এর ব্লক জি-এইচ-৩৭-এর বাসিন্দা। বিস্ফোরণে তিনি গুরুতর জখম হয়েছেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, মিয়ানমারের সশস্ত্র গোষ্ঠী আরাকান আর্মির (এএ) পুঁতে রাখা স্থলমাইন থেকেই বিস্ফোরণটি ঘটেছে।
উখিয়া ব্যাটালিয়নের (৬৪ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. জহিরুল ইসলাম বলেন, ‘স্থলমাইন বিস্ফোরণের ঘটনাটি মিয়ানমারের অভ্যন্তরে ঘটেছে। তবে সীমান্তে নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) সব সময় সর্তক অবস্থানে রয়েছে এবং সীমান্তবাসীকে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।’
এর আগে, ১৫ এপ্রিল একই এলাকায় ল্যান্ডমাইন বিস্ফোরণে মোহাম্মদ ইউনুছ (২৬) ডান পা হারান। ১০ এপ্রিল বালুখালী সিমান্তে মো. সাদেক (২৫) তার পা হারান। এ ছাড়া ২৯ মার্চ আব্দুল হাকিম (১৫) ও ২৬ মার্চ মোহাম্মদ শহীদুল ইসলাম (২৫) পৃথক বিস্ফোরণে গুরুতর আহত হন।
সীমান্ত সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, মিয়ানমারের ভেতরে পুঁতে রাখা স্থলমাইন দীর্ঘদিন ধরে সীমান্তবর্তী মানুষের জন্য বড় ঝুঁকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাই অপ্রয়োজনীয় চলাচল এড়িয়ে জনসাধারণকে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বনের আহ্বান জানানো হয়েছে।
গত ২৯ মার্চ থেকে ১৯ এপ্রিল পর্যন্ত ২১ দিনে উখিয়ার বালুখালী ও পালংখালী সীমান্তে ল্যান্ডমাইন বিস্ফোরণে অন্তত পাঁচ রোহিঙ্গা পা হারিয়েছেন।


