মানিকগঞ্জের হরিরামপুর উপজেলার গালা ইউনিয়নে জীবিত থাকা সত্ত্বেও সরকারি খাতায় ‘মৃত’ দেখিয়ে এক বৃদ্ধার বয়স্ক ভাতা কার্ড বাতিল করার অভিযোগ উঠেছে। ভাতা থেকে বঞ্চিত এই নারী হলেন ৯৩ বছর বয়সী তারামন বিবি।
উপজেলার গালা ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা তারামন বিবি বয়সের ভারে নুয়ে পড়লেও এখনও ছোট্ট ঘরে জীবনযুদ্ধ চালিয়ে যাচ্ছেন। দীর্ঘ ১৬ থেকে ১৭ বছর ধরে নিয়মিত বয়স্ক ভাতা পেলেও তা বন্ধ হয়ে গেছে।
তারামন বিবি বলেন, ‘আমি বাইচা আছি, কিন্তু কাগজে আমারে মরা বানাইছে। ভাতার টাকাও পাই না। ১৬-১৭ বছর ধইরা ভাতা পাইতাম, হঠাৎ কাইটা দিছে।’
তার ছেলে হাসমত মোল্লা এ ঘটনায় প্রতিবাদ জানিয়ে গত ১৪ জুলাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। তিনি অভিযোগে স্থানীয় ইউপি সদস্য দেওয়ান হাবিবুর রহমান হারেজের বিরুদ্ধে মায়ের ভাতা অন্য একজনের নামে দেওয়ার অভিযোগ তোলেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ইউপি সদস্য হাবিবুর রহমান বলেন, ‘আমার একটু ভুল হয়েছে। আমি মৃত সনদ দিইনি, ইউনিয়ন পরিষদ থেকে ভুলে মৃতের প্রত্যয়ন দেওয়া হয়েছে।’ তবে যার নামে নতুন কার্ড হয়েছে, তার কাছ থেকে কোনো বাড়তি সুবিধা নেননি বলেও দাবি করেন তিনি।
উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মো. আঈয়ুব আলী বলেন, ‘ইউপি চেয়ারম্যান ও সদস্যের প্রত্যয়নের ভিত্তিতেই তারামন বিবিকে তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে।’
হরিরামপুর ইউএনও কোহিনুর আক্তার বলেন, ‘আমরা অভিযোগ পেয়েছি। সমাজসেবা কর্মকর্তাকে তিন দিনের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে। যদি অনিয়ম পাওয়া যায়, ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
তবে নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেলেও ১৬ দিনেও তদন্ত প্রতিবেদন জমা পড়েনি। সমাজসেবা কর্মকর্তা এ বিষয়ে জানান, ‘একটু দেরি হয়ে গেছে। তবে, তারামন বিবির কার্ডের বিষয়টি অবশ্যই দেখা হবে।’


