মাদারীপুরের কালকিনিতে ১৪ বছর বয়সী এক কিশোরীকে অপহরণের পর পর্যায়ক্রমে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে এক ব্যক্তি ও তার নাতির বিরুদ্ধে। ভুক্তভোগী ওই কিশোরীকে সোমবার দুপুরে মাদারীপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
অভিযুক্তরা হলেন কালকিনি উপজেলার আলীনগর ইউনিয়নের আলীনগর গ্রামের নওয়াব আলী সরদার এবং তার নাতি মিলন সরদার।
পারিবারিক ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ভুক্তভোগী কিশোরীর মা মাদারীপুর শহরে গৃহকর্মীর কাজ করেন এবং বাবা ঢাকায় দিনমজুর হিসেবে কর্মরত। গত বুধবার ঝাউদী ইউনিয়নের ব্রাহ্মন্দী গ্রামে কিশোরীর বাড়িতে বেড়াতে আসেন তার চাচার আত্মীয় নওয়াব আলী সরদার। বাড়িতে কেউ না থাকার সুযোগে নওয়াব আলী ওই কিশোরীকে কৌশলে অজ্ঞান করে অপহরণ করে নিয়ে যায়।
অভিযোগ উঠেছে, প্রথমে নওয়াব আলী তাকে আলীনগর গ্রামে নিয়ে একাধিকবার ধর্ষণ করে। পরবর্তীতে কিশোরীকে ঢাকায় নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে নওয়াব আলীর নাতি, রাজমিস্ত্রি সোহেল সরদারের ছেলে মিলন সরদারও তাকে পুনরায় ধর্ষণ করে।
দীর্ঘদিন নির্যাতনের পর আত্মীয়-স্বজনদের সহায়তায় কিশোরীকে উদ্ধার করে সোমবার মাদারীপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার ডা. মীর রায়হান জানান, ‘ধর্ষণের অভিযোগ নিয়ে এক কিশোরী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। তার চিকিৎসা চলছে। গাইনোকোলজিক্যাল পরীক্ষার রিপোর্ট হাতে পেলে বিষয়টি পুরোপুরি নিশ্চিত হওয়া যাবে।’
এ বিষয়ে মাদারীপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘হাসপাতাল সূত্রে ধর্ষণের অভিযোগে এক কিশোরীর ভর্তির খবর পেয়েছি। তবে এখন পর্যন্ত থানায় লিখিত কোনো অভিযোগ করা হয়নি। অভিযোগ পেলে দ্রুত আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
এদিকে ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত নওয়াব আলী সরদার ও মিলন সরদারসহ তাদের পরিবারের সদস্যরা পলাতক রয়েছে। এ ঘটনায় দোষীদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীর পরিবার ও এলাকাবাসী।


