চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়েছে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগর উপজেলার চান্দুরা থেকে সিঙ্গারবিল পর্যন্ত ২২ কিলোমিটার সড়ক। সাম্প্রতিক ভারী বর্ষণে সড়কের বড় বড় গর্ত পানিতে ভরে যাওয়ায় এটি সাধারণ যাত্রী ও পরিবহন চালকদের জন্য মরণফাঁদ হয়ে উঠেছে।
মোট ২৭ কিলোমিটার দীর্ঘ এই সড়কের অধিকাংশ স্থানের বিটুমিন উঠে গিয়ে সৃষ্টি হয়েছে বড় বড় গর্ত। অনেক জায়গায় সড়ক দেবে গিয়ে ঢেউয়ের মতো আকার ধারণ করেছে। বৃষ্টির পানি জমে থাকা এসব গর্ত দেখে মনে হয় যেন সড়কের মাঝে ছোট ছোট পুকুর।
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ রুট চান্দুরা–সিঙ্গারবিল সড়ক। আখাউড়া স্থলবন্দরসহ সিলেট ও কুমিল্লার সাথে যোগাযোগের ক্ষেত্রে বিকল্প পথ হিসেবে এই সড়ক ব্যবহার হয়। বর্তমানে চান্দুরা, সাতগাঁও, আলাদাউদপুর, মির্জাপুর, মোল্লারটেক, পেটুয়াজুরি, চম্পকনগর, নোয়াগাঁও মোড়, আদমপুর, খিরাতলা, শ্রীপুর ও সিঙ্গারবিল এলাকার সড়কটি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত।
সড়কের এই অবস্থার পেছনে ড্রেনেজ ব্যবস্থার অভাবকে দায়ী করছেন ভুক্তভোগীরা। রাস্তার পাশে থাকা বাড়িঘরের পানি নিষ্কাশনের পাইপ সরাসরি সড়কে সংযুক্ত হওয়ায় সারা বছরই এখানে জলাবদ্ধতা লেগে থাকে। প্রায় এক বছর আগে ইটের খোয়া দিয়ে সড়কটি সাময়িকভাবে মেরামত করা হলেও তা টেকসই হয়নি। বরং বর্তমান অবস্থা আগের চেয়েও বেশি বিপজ্জনক হয়ে দাঁড়িয়েছে।
রাস্তার বেহাল দশার কারণে সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন শিক্ষার্থী, গর্ভবতী নারী, শিশু, বৃদ্ধ ও অসুস্থ রোগীরা। ব্যবসায়ীদের পণ্য পরিবহনেও খরচ অনেক বেড়ে গেছে।
এসএসসি পরীক্ষার্থী স্থানীয় বাসিন্দা সাদিয়া বলেন, সড়কটি ভয়াবহভাবে ভেঙে গেছে। অনেক জায়গা পানিতে ডুবে আছে। সড়কের বেহাল দশার কারণে সহজে যানবাহন পাওয়া যায় না। যেসব যানবাহন চলাচল করে তার চালকরাও অনেক বেশি ভাড়া আদায় করেন।
সিএনজিচালিত অটোরিকশার চালক রুবেল মিয়া জানান, অটোরিকশাগুলো প্রায়ই গর্তে আটকে গিয়ে নষ্ট হয়ে যায়। এতে নিয়মিতভাবে ছোটখাটো দুর্ঘটনা ঘটছে।
চম্পকনগর ও চান্দুরা এলাকার বাসিন্দারা জানান, সামান্য বৃষ্টি হলেই পুরো সড়ক তলিয়ে যায়। দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় আখাউড়া-চান্দুরা সড়কের বিজয়নগর অংশটি এখন চলাচলের প্রায় অনুপযোগী।
স্থানীয় বাসিন্দারা এখন সড়কটিকে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) থেকে সড়ক ও জনপথ বিভাগের (সওজ) অধীনে নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। তারা মনে করেন, দীর্ঘমেয়াদী সমাধানের জন্য সওজ-এর মাধ্যমে টেকসই উন্নয়ন প্রয়োজন।
এ বিষয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ আসনের সংসদ সদস্য খালেদ হোসেন মাহবুব শ্যামল জাতীয় সংসদে কথা বলেছেন। তিনি সড়কটিকে সড়ক ও জনপথ বিভাগের অধীনে নিয়ে টেকসই ও উন্নত মানের করে পুনর্নির্মাণের দাবি জানান।
জনদুর্ভোগ কমাতে এবং যাতায়াত ব্যবস্থা সহজ করতে সড়কটি দ্রুত সংস্কারের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন স্থানীয়রা।


