সরকারি চাকরি (সংশোধন) অধ্যাদেশ বাতিলের দাবিতে মঙ্গলবার সচিবালয়ের বাদামতলায় বড় ধরনের সমাবেশের কর্মসূচি দিয়েছে বাংলাদেশ সচিবালয় কর্মকর্তা-কর্মচারী ঐক্য ফোরাম।
সোমবার জনপ্রশাসন ও মন্ত্রিপরিষদের নতুন ভবনের নিচে আয়োজিত সংক্ষিপ্ত জমায়েত থেকে এ ঘোষণা দেন ঐক্য ফোরামের নেতারা।
সচিবালয় কর্মকর্তা কর্মচারী ঐক্য ফোরামের কো-মহাসচিব মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম বলেন, ‘মঙ্গলবার থেকে প্রতিটি মন্ত্রণালয় থেকে পৃথক মিছিল নিয়ে আসবেন। উপদেষ্টা দপ্তর, সচিবের দপ্তর এবং প্রশাসন শাখা থেকে পৃথক পৃথক মিছিল নিয়ে আসবেন। দরকার হলে টেনেহেঁচড়ে নিয়ে আসবেন। বাদাম তলায় সকাল ১১টায় মিলিত হবেন।’
আইন উপদেষ্টাকে উদ্দেশে করে তিনি বলেন, ‘আইন উপদেষ্টা মন্তব্য করলেন যে, আইন পাস হওয়ার সময় তিনি দেশের বাইরে ছিলেন। এমনভাবে মন্তব্য করলেন যে, আমি যদি থাকতাম এই আইন বাস্তবায়ন হত না। চেয়ারে বসে বড় বড় কথা বলেন, উল্টা-পাল্টা কথা বলেন। দেশের মানুষকে বিভ্রান্ত করেন। আপনাদের উদ্দেশ্য কী?’
ফ্যাসিস্ট সরকার চলে যাওয়ার পর গত ১০ মাসে আমাদের মাঝে কোনো অনিয়ম খুঁজে পায়নি। তারও পরেও আমাদের মনে আগুন জ্বালানোর অধিকার আপনাকে কে দিয়েছে? যোগ করেন তিনি।
মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম বলেন, ‘আমরা মাস্তান নই। রাজপথে গলাফাটানোর লোক আমরা নই। আমাদের কেন অশান্ত করলেন? আওয়ামী ফ্যাসিস্ট সরকার একদিনে ফ্যাসিস্ট হয়নি। এই সরকারের ভেতরেও ফ্যাসিস্ট আছে, আমরা কিন্তু চিনি। শুধু এসবি, এনএসআই, ডিজিএফআই চেনে, ব্যাপারটি এমন নয়। আমরাও কিন্তু চিনি। আপনাদের মন মানসিকতা আমরা বুঝি।’
২২ মে উপদেষ্টা পরিষদ সরকারি চাকরি আইন সংশোধন করে অধ্যাদেশ আকারে জারি করার প্রস্তাবে সায় দেয়।
এর প্রতিবাদে ২৪ মে সকাল থেকে দিনভর সচিবালয়ে বিক্ষোভ করেন কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। তাদের আপত্তির মধ্যেই রাষ্ট্রপতির অনুমোদনের আনুষ্ঠানিকতা শেষে ২৫ মে রাতে অধ্যাদেশ জারি করা হয়।
সেখানে পুরনো আইনের সঙ্গে ‘৩৭ক’নামের আরেকটি ধারা সংযোজন করা হয়। নতুন ধারায় একজন কর্মকর্তা ও কর্মচারীকে দুই দফায় সাত দিন করে নোটিশের পর, দায়ী হলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা রাখার বিধান রাখা হয়েছে।
সরকারি চাকরি আইন সংশোধন করে জারি করা অধ্যাদেশ প্রত্যাহারের দাবি জানিয়ে কর্মকর্তা কর্মচারী ঐক্য ফোরামের কো-চেয়ারম্যান বাদিউল কবীর বলেন, ‘সচিবালয়ের কর্মকর্তা কর্মচারীদের আচরণ খুবই পরিশীলিত এবং তারা খুবই আনুগত্য পরায়ণ। তাদের অহেতুক, অন্যায় ও নিবর্তনমূলক অধ্যাদেশের মাধ্যমে ক্ষেপিয়ে তোলার ব্যবস্থা করছেন। আপানারা কোনো টালবাহানা না করে এই আইন প্রত্যাহার করুণ।’
এর আগে, সোমবার সকাল থেকেই ঈদের ছুটি শেষে ফের আন্দোলন করছেন কর্মচারীরা। সচিবালয়ে গণজমায়েত শেষে তিনজন উপদেষ্টাকে স্মারকলিপিও দেন তারা। এদিন বিভিন্ন বিভাগের কর্মচারীরা সচিবালয় প্রাঙ্গণে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেন।


