ভূমিকম্প নিয়ে সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সরকারের চিঠি

ভূমিকম্প নিয়ে সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সরকারের চিঠি
ফাইল ছবি
Advertisement
Advertisement

দেশের সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষার্থী-কর্মচারীদের জন্য ভূমিকম্প সংক্রান্ত ‘অতীব জরুরি’ সতর্কতামূলক নির্দেশনা জারি করেছে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর। কোনো প্রতিষ্ঠানে ঝুঁকিপূর্ণ ভবন থাকলে তা চিহ্নিত করার আহ্বান জানানো হয়েছে প্রতিষ্ঠান প্রধানদের প্রতি।

সোমবার উপসচিব মুহাম্মদ ওবায়দুর রহমান এ সংক্রান্ত একটি নির্দেশনা জারি করেন। দেশের সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধানদের কাছে এই নির্দেশনা পাঠানো হয়েছে বলেন জানান অধিদপ্তরের পরিচালক খালিদ হোসেন।

নির্দেশনায় বলা হয়, নিজ প্রতিষ্ঠানের ভবনগুলো পরিদর্শন করবেন প্রতিষ্ঠান প্রধানরা। ঝুঁকিপূর্ণ ভবন থাকলে তা চিহ্নিত করতে হবে। সংস্কারের আগ পর্যন্ত বিকল্প উপায়ে শিক্ষা কার্যক্রম চালাতে হবে। প্রয়োজনে অস্থায়ী ক্লাসরুম বা অনলাইনে শিক্ষা কার্যক্রম চালু করতে হবে।

এ ছাড়া ভূমিকম্পের সময় শিক্ষার্থীদের আতঙ্কিত হয়ে ছোটাছুটি না করার আহ্বান জানানো হয়েছে। ভূমিকম্পের সময় বিদ্যুৎ ও গ্যাসের লাইন বন্ধ রাখা, লিফট্ ব্যবহার না করা, দেয়াল বা বড় গাছ এড়িয়ে চলতে বলা হয় শিক্ষার্থীদের।

ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের তথ্য চেয়ে চিঠি

এ ছাড়াও ‘ক্ষতিগ্রস্ত’ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের তথ্য চেয়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোতে সরকারের পক্ষ থেকে দুটি চিঠি পাঠানো হয়েছে। ক্ষয়ক্ষতির ছবিসহ বিস্তারিত তথ্য নির্ধারিত ইমেইলে পাঠানোর নির্দেশনা দিয়েছে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর ও প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর।

উচ্চবিদ্যালয়, কলেজ, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের তথ্য পাঠানোর ঠিকানা: [email protected] এবং সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তথ্য পাঠানোর ঠিকানা: [email protected]

আরও পড়ুন

সোমবার শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী মো. তারেক আনোয়ার জাহেদী জানান, ভূমিকম্পের পরপরই মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ এবং কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের আওতাধীন প্রতিষ্ঠানের তথ্য চেয়ে চিঠি পাঠানো হয়। এখনো সব তথ্য আসেনি। তথ্য পাওয়ার পর সংস্কারের জন্য শিক্ষা মন্ত্রণালয়কে তালিকা পাঠাব। মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী ক্ষতিগ্রস্ত প্রতিষ্ঠান সংস্কার করা হবে।

প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের পরিকল্পনা ও উন্নয়ন শাখার পরিচালক মিরাজুল ইসলাম উকিলের সই করা চিঠিতে ২৭ নভেম্বরের মধ্যে ক্ষয়ক্ষতির বিস্তারিত তথ্য আহ্বান হয়েছে।

গত শনিবার সন্ধ্যায় এক সেকেন্ডের ব্যবধানে দুইবার ভূমিকম্প হয়। ভূমিকম্প দুটির উৎপত্তিস্থল ঢাকার বাড্ডা এলাকা।

আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, দুটি ভূমিকম্পের মধ্যে সন্ধ্যা ৬টা ৬ মিনিট ৪ সেকেন্ডে রিখটার স্কেলে ৩ দশমিক ৭ মাত্রার একটি ভূমিকম্প হয়। এরপর এক সেকেন্ড পর সন্ধ্যা ৬টা ৬ মিনিট ৫ সেকেন্ডে দ্বিতীয়বার ভূমিকম্প হয়। রিখটার স্কেলে এটির মাত্রা ৪ দশমিক ৩।

তার আগে, সকালে আরেক দফা ভূমিকম্প হয়। আবহাওয়া অধিদপ্তরের ভূমিকম্প পর্যবেক্ষণ ও গবেষণা কেন্দ্র জানায়, শনিবার সকাল ১০টা ৩৬ মিনিটে ৩ দশমিক ৩ মাত্রার এ কম্পন রেকর্ড করা হয়।

প্রথমে আবহাওয়া অধিদপ্তর ৩ দশমিক ৩ মাত্রার এই ভূমিকম্পের উৎস জানায় সাভারের আশুলিয়ার বাইপাইল এলাকা। পরে বিকালে জানায়, এই ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল নরসিংদীর পলাশ উপজেলা। বিশ্লেষণে সমস্যার কারণে এই ভুল হয়েছিল বলে জানায় আবহাওয়া অধিদপ্তর।

ভূমিকম্প পর্যবেক্ষণ ও গবেষণা কেন্দ্রের দায়িত্বরত কর্মকর্তা জানান, এটি একটি স্বল্প মাত্রার ভূমিকম্প।

এর আগে, শুক্রবার সকাল ১০টা ৩৮ মিনিটে নরসিংদীর মাধবদীতে ৫ দশমিক ৭ মাত্রার ভূমিকম্প হয়। এতে শিশুসহ অন্তত ১০ জন প্রাণ হারান এবং আহত হন অন্তত ৪০০।

দেশে দুই দিনে চারবার ভূমিকম্পে দেশের অনেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ বেশকিছু শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ক্ষতিগ্রস্ত ভবন সংস্কারের জন্য ছুটি ঘোষণা করা হয়।

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর
Ad