বিদেশ যেতে চাইলেও অনুমতি পাননি অ্যালায়েন্ট এনার্জি সল্যুশন (বিডি) লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক কাজী হাসান শরীফ।
বৃহস্পতিবার ঢাকার মহানগর জ্যেষ্ঠ বিশেষ জজ মো. সাব্বির ফয়েজ শুনানি শেষে তার বিদেশ যাওয়ার অনুমতির আবেদন খারিজ করে দেন।
দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) আইনজীবী তারিকুল ইসলাম এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
মামলার অনুসন্ধানকারী কর্মকর্তা দুদকের সহকারী পরিচালক আশিকুর রহমান জানান, হাসান শরীফ বিদেশ যেতে অনুমতি চেয়ে আবেদন করেন। আদালত অনুসন্ধানের বিষয়ে প্রতিবেদন জমা দিতে বলেন। এ বিষয়ে আদালতে প্রতিবেদন জমা দেওয়া হয়েছে।
প্রতিবেদনে আশিকুর রহমান উল্লেখ করেন, হাসান শরীফের বিরুদ্ধে অবৈধভাবে প্রায় দুই হাজার কোটি টাকা বিদেশে পাচারের অভিযোগের অনুসন্ধান চলছে। অনুসন্ধান কার্যক্রমের অংশ হিসেবে হাসান শরীফের স্বনামে ও তার ওপর নির্ভরশীল ব্যক্তিদের নামে, বেনামে দেশে-বিদেশে সম্পদের মালিকানা থাকার সম্ভাবনা যাচাইয়ে তার এবং তার স্ত্রী ও কন্যাদের নামে বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটসহ (বিএফআইইউ) বিভিন্ন দপ্তরে আনুষ্ঠানিক অনুরোধপত্র পাঠানো হয়েছে। এর মধ্যে কয়েকটি দপ্তর থেকে জবাবও পাওয়া গেছে।
অনুসন্ধানে দুদক জানতে পেরেছে, হাসান শরীফের তিন মেয়ে যুক্তরাষ্ট্রে বাস করেন এবং তারা সেদেশেরই নাগরিক। এছাড়া তার বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফের ভায়রা হিসেবে ক্ষমতার অপব্যবহার করে এয়ারপোর্টসহ বিভিন্ন দপ্তরে টেন্ডারবাজি, পুলিশ ও প্রশাসনে বদলি ও পদোন্নতি বাণিজ্য, ভ্যাকসিন বাণিজ্যসহ নানাবিধ অভিযোগ রয়েছে।
বিভিন্ন কোম্পানির তথ্য ব্যবহার করে তিনি বিদেশে অর্থ পাচার করেছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার নামে মালয়েশিয়ায় সেকেন্ড হোমসহ যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও সিঙ্গাপুরে অঢেল সম্পদ রয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।
প্রাপ্ত অভিযোগের ভিত্তিতে অনুসন্ধান চলছে। আর এই অনুসন্ধান কার্যক্রম শেষ না হওয়া পর্যন্ত তার বিদেশ গমন রোধ করা প্রয়োজন বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।


