বিডিআর বিদ্রোহ সেনাবাহিনীর মনোবল ভাঙার চক্রান্ত: মির্জা ফখরুল  

বিডিআর বিদ্রোহ সেনাবাহিনীর মনোবল ভাঙার চক্রান্ত: মির্জা ফখরুল  
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। ছবি: ভিডিও থেকে নেওয়া
Advertisement
Advertisement

পিলখানা ট্র্যাজেডির নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করেছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় (এলজিআরডি) মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, ‘সেনাবাহিনীর মনোবল ভেঙে দিতেই ৫৭ জন কর্মকর্তাকে হত্যা করা হয়।’

বুধবার সকালে বনানী সামরিক কবরস্থানে বিডিআর বিদ্রোহে শহীদ সেনা কর্মকর্তাদের সমাধিসৌধে শ্রদ্ধা জানানো শেষে এসব কথা বলেন তিনি।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘৫৭ সেনা কর্মকর্তাসহ ৭৪ জনকে হত্যার এই দিনটি আমাদের জাতির জন্যে অত্যন্ত লজ্জার এবং কলঙ্কিত অধ্যায় বলে আমরা মনে করি। কারণ এই দিনে যে চক্রান্ত হয়েছিল, যে প্রচেষ্টা হয়েছিল তা দেশের পুরো নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে ভেঙে দেওয়ার গভীর চক্রান্ত ছিল। চৌকশ ৫৭জন সেনা কর্মকর্তাকে হত্যা করে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর মনোবল এবং একই সঙ্গে বাংলাদেশের মনোবল ভেঙে দেওয়ার চক্রান্ত হয়েছিল।’

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘জনগণ তাদের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও গণতন্ত্রকে রক্ষা করতে ঘুরে দাঁড়িয়েছে। নির্বাচনের মধ্য দিয়ে বিএনপি রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পেয়ে সেই স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বকে সুসংগত করা এবং গণতন্ত্রকে প্রতিষ্ঠা করবার একটা বড় সুযোগ পেয়েছে।’

‘আমরা বিশ্বাস করি, বিএনপি বরাবরের মতোই বাংলাদেশকে একটা গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে পরিণত করার পাশাপাশি স্বাধীন ও সমতাকে পুরোপুরিভাবে সুসংহত করবে। সেইসঙ্গে এই জঘন্য হত্যাকাণ্ডের নিরপেক্ষ তদন্ত করে দায়ী ব্যক্তিদের এবং পেছনে ইন্ধনদাতা শক্তিদের আইনের আওতায় নিয়ে তাদের শাস্তি নিশ্চিত করবে।’

আরও পড়ুন

এ সময় পিলখানা হত্যাকাণ্ডের শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা এবং তাদের পরিবার পরিজনদের প্রতি সমবেদনা জানান স্থানীয় সরকার মন্ত্রী।

তার সঙ্গে আরও উপস্থিত ছিলেন অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল ফজলে এলাহি আকবর, অবসরপ্রাপ্ত লে. কর্ণেল কামরুজ্জামান, অবসরপ্রাপ্ত মেজর মিজানুর রহমান, অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিদ্দিকুর রহমান, অবসরপ্রাপ্ত স্কোয়াড্রন লিডার জাহিদ হোসেন, জাগপার চেয়ারম্যান খন্দকার লুৎফুর রহমান, বিডিআরের মহাপরিচালক মেজর জেনারেল শাকিল আহমেদের ছেলে রাকির আহমেদ ভুঁইয়া।

এর আগে সকালে বনানী সামরিক কবরস্থানে শহীদদের স্মৃতি বেদিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। শহীদদের স্মরণে এ সময় এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয় এবং সামরিক বাহিনীর সদস্যরা স্যালুট জানান। পরে দোয়া ও মোনাজাতে অংশ নেন রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী।

এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহ উদ্দিন আহমদ, সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান, নৌবাহিনী প্রধান অ্যাডমিরাল মোহাম্মদ নাজমুল হাসান, বিমানবাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন এবং সেনা, নৌ ও বিমান বাহিনীর ঊর্ধ্বতন সামরিক কর্মকর্তারা।

উল্লেখ্য ২০০৯ সালের ২৫ ও ২৬ ফেব্রুয়ারি ঢাকার পিলখানায় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর সদরদপ্তরে বিদ্রোহের ঘটনায় তৎকালীন বিডিআর মহাপরিচালক মেজর জেনারেল শাকিল আহমেদসহ ৫৭ জন সেনা কর্মকর্তাসহ মোট ৭৪জন নিহত হন। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর গতবছর বাংলাদেশের ইতিহাসে বিভীষিকাময় ও শোকাবহ এ দিনটি জাতীয় শহীদ সেনা দিবস হিসেবে পালনের সিদ্ধান্ত হয়।

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর
Ad