হবিগঞ্জের বাহুবল উপজেলায় এক বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে প্রায় ২০০ বছরের পুরোনো শ্মশান ঘাটসহ চা বাগানের প্রায় পাঁচ একর জমি দখল করার অভিযোগ উঠেছে। অভিযুক্ত নেতার নাম রফিকুল ইসলাম। তিনি ও তার সহযোগীরা মিলে রামপুর ও রশিদপুর চা বাগানের এই জমি দখলে নিয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন বাগানের শ্রমিকরা।
এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় চা শ্রমিকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও এলাকাবাসীর মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। তবে চা বাগানের জমি দখলের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন রফিকুল ইসলাম।
স্থানীয় বাসিন্দা ও চা শ্রমিকদের সূত্রে জানা গেছে, বিতর্কিত এই জমিটি দীর্ঘ দুই শতাব্দী ধরে চা বাগানের অংশ হিসেবে রয়েছে। সেখানে থাকা একটি শ্মশান ঘাট শ্রমিকরা বংশানুক্রমিকভাবে ব্যবহার করে আসছেন। এছাড়া প্রায় ৫০ বছর আগে বাগানের নিয়মিত কাজের অংশ হিসেবে ওই জমির একটি অংশে রাবার চাষ শুরু করা হয়।
শ্রমিকদের অভিযোগ, সম্প্রতি রফিকুল ইসলাম ও তার সমর্থকরা রাতের আঁধারে ওই শ্মশান ও রাবার বাগানসহ পুরো এলাকাটি নেট দিয়ে ঘিরে নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়েছেন। বর্তমানে সেখানে লাঠিসোঁটা নিয়ে কয়েকজনকে পাহারা দিতেও দেখা গেছে।
এ ঘটনার প্রতিবাদে গত সোমবার দুটি চা বাগানের শত শত শ্রমিক মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ করেন। সমাবেশে রামপুর চা বাগান পঞ্চায়েতের সভাপতি চম্পা লাল এবং রশিদপুর চা বাগান পঞ্চায়েতের সভাপতি নিপেন চাষা বলেন, ‘এ জমি আমাদের ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের অংশ। বাগান বা শ্মশানের জমি বেদখল হলে শত শত শ্রমিকের জীবিকা হুমকিতে পড়বে।’
স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য গীতা রানী কর্মকারও এ ঘটনার নিন্দা জানিয়ে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।
শ্রমিকরা হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, জমি দ্রুত উদ্ধার করা না হলে তারা ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক অবরোধসহ আরও কঠোর কর্মসূচি পালন করবেন।
অন্যদিকে, জমি দখলের অভিযোগ অস্বীকার করে বিএনপি নেতা রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘আমি কোনো জমি দখল করিনি। এই জমির মালিকানা দাবি করে ২০১৯ সাল থেকে আমি প্রশাসনের সাথে যোগাযোগ রাখছি। চা বাগান কর্তৃপক্ষের কাছে এই জমির কোনো বৈধ কাগজ নেই।’
রামপুর চা বাগানের ব্যবস্থাপক ওমর ফারুক বাবু অবশ্য দাবি করেন, জমিটি চা বাগানেরই অংশ। প্রশাসনের হস্তক্ষেপে তারা এটি ফেরত পাওয়ার আশা করছেন।
এ বিষয়ে বাহুবল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা উজ্জ্বল রায় জানান, একজন স্থানীয় ব্যক্তি দীর্ঘদিন ধরে এ জমির মালিকানা দাবি করছেন। ইতিমধ্যে তিনি এবং অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। তদন্ত শেষ হলে জেলা প্রশাসন থেকে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।


