জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া বিএনপির বর্তমান রাজনৈতিক অবস্থান ও কর্মকাণ্ড নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।
তিনি বলেছেন, ‘যে দলকে একসময় জাতীয়তাবাদী শক্তি হিসেবে দেখা হতো, তাদের বর্তমান ভূমিকা আর আগের সঙ্গে মিলছে না বলে মনে হচ্ছে।’
বৃহস্পতিবার বিকালে মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে বাংলামোটরে দলের অস্থায়ী কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
বক্তব্যের শুরুতে তিনি বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানকে একটি ধারাবাহিক সংগ্রামের অংশ হিসেবে তুলে ধরেন।
আসিফ মাহমুদ বলেন, ‘আজকের এই দিনটি মহান স্বাধীনতা অর্জনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সেই ইতিহাসের ধারাবাহিকতায় ২০২৪ সালে আমরা আবারও একটি রক্তক্ষয়ী গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে দেশের মানুষের স্বাধীনতাকে অগ্রাহ্য করা ফ্যাসিবাদী শক্তির বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েছি। ফ্যাসিবাদকে বিদায় করে আমরা একটি নতুন বাংলাদেশ — বাংলাদেশ ২.০ গড়ার স্বপ্ন দেখেছিলাম। সেই স্বপ্নের অংশ হিসেবেই জুলাই সনদ প্রায় এক বছরের আলোচনার ভিত্তিতে সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত হয় এবং পরবর্তীতে গণভোটে তা জনসমর্থন পায়।’
তিনি বলেন, ‘আমরা দেখছি গণভোটের জনরায়কে নানাভাবে অগ্রাহ্য করার এবং গণভোটের অধ্যাদেশ বাতিল করার নানা ধরনের চেষ্টা চলমান রয়েছে। যারা ক্ষমতায় আছেন তারা গণরায়ের বিরুদ্ধে অবস্থান নিতেও দ্বিতীয়বার ভাবছেন না।’
এনসিপির এই মুখপাত্র উল্লেখ করেন, আওয়ামী লীগ আমলে যে বিচারপতি জিয়াউর রহমানকে সবচেয়ে বড় রাজাকার বলেছিলেন, বিএনপি ক্ষমতায় আসার এক মাসের মধ্যে তার জামিন কার্যকর করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা দেখছি যে উদ্ভট উটের পিঠে চলছে স্বদেশ। কেউ ক্ষমতায় আছে, কিন্তু পেছন থেকে কে চালাচ্ছে?’
তারেক রহমান ও খালেদা জিয়াকে নিয়ে অতীতে যারা কটূক্তি করেছিলেন, তাদেরই এখন সঙ্গে নিয়ে ঘোরার বিষয়টিকে আসিফ ‘খুব অস্বাভাবিক’ বলে উল্লেখ করেন।
অন্তর্বর্তী সরকারের ক্রয় কমিটির সদস্য হিসেবে নিজের অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করে আসিফ দাবি করেন, জ্বালানি সংকট সরবরাহ সমস্যার কারণে নয়, বরং পরিকল্পিত মজুতদারির ফলে সৃষ্ট।
‘সরকারে থাকা অবস্থায় প্রায় প্রতিটি ক্রয় কমিটির বৈঠকে তেল ও গ্যাস আমদানির অনুমতি দেওয়া হতো। কমপক্ষে দুই মাসের তেলের মজুত বাংলাদেশে থাকার কথা,’ তিনি যোগ করেন।
আসিফ প্রশ্ন তোলেন যে হরমুজ প্রণালিতে ইরান বাংলাদেশের ট্যাংকারগুলোকে যাতায়াতে বাধা দেয়নি, তাহলে এত দ্রুত কেন সংকট তৈরি হলো।
তিনি বলেন, ‘নিশ্চয়ই জ্বালানি তেল কেউ মজুত করছে। সরকার যেসব বড় কোম্পানিকে আমদানির অনুমতি দেয় এবং তাদের ভেন্ডররা মজুত করছে। কিন্তু এখন পর্যন্ত কোনো বড় প্রতিষ্ঠানের তেলের মজুতে কি অভিযান চালানো হয়েছে? সিজ করে বাজারে উন্মুক্ত করা হয়েছে? করা হয়নি। না করার একটাই কারণ হতে পারে — তাদের সঙ্গে আপনাদের (সরকারের) যোগসাজশ আছে। ১০ টাকার তেল যদি ২০ টাকায় বিক্রি কর, তাহলে আট টাকা আমার — সিম্পল ইকুয়েশন। এটা বোঝার জন্য বেশি জ্ঞানী হওয়ার প্রয়োজন নেই।’
বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের বিরুদ্ধেও সরাসরি অভিযোগ তোলেন আসিফ মাহমুদ।
আসিফ জানান, বিএনপি ক্ষমতায় এসে জেলা পরিষদে প্রশাসক নিয়োগ দিচ্ছে এবং শোনা যাচ্ছে উপজেলা ও পৌরসভা পর্যায়েও একই কাজ করা হবে। অথচ অন্তর্বর্তী সরকার আইনি ক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও গণতান্ত্রিক ভাবমূর্তি রক্ষার জন্য এ ধরনের নিয়োগ থেকে বিরত ছিল।
তিনি বলেন, ‘মেয়রের চেয়ারে বসে যদি মেয়র নির্বাচন করি, তাহলে বাকি নির্বাচন করার আর কোনো প্রয়োজন নেই। রেজাল্ট আগে থেকেই ডিসাইড।’
আসিফ আরও বলেন, ‘আমরা তাদের বলতে চাই — আপনারা আসলে গণতন্ত্রের হত্যাকারী। তাদের যে গণতন্ত্রের জন্য লড়াই, এটা আসলে শুধুই ক্ষমতার জন্য লড়াই ছিল। ক্ষমতা যার কাছে, তার আসলে গণতন্ত্রের প্রয়োজন নেই।’


