পূর্বাচলের বাংলাদেশ-চায়না ফ্রেন্ডশিপ এক্সিবিশন সেন্টারে শুরু হতে যাচ্ছে ৩০তম ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা-২০২৬। যেখানে বিভিন্ন দেশি ও বিদেশি প্রতিষ্ঠান মাসব্যাপী বাণিজ্য, সংস্কৃতি, উদ্ভাবন ও জনসেবাভিত্তিক আয়োজন তুলে ধরবে।
বৃহস্পতিবার সকাল ১০টায় এ মেলার উদ্বোধন করবেন প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস। যৌথভাবে মেলার আয়োজক বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো।
মেলার সার্বিক প্রস্তুতি ও আয়োজন নিয়ে বাণিজ্য সচিব মাহবুবুর রহমান সোমবার সাংবাদিকদের ব্রিফিং করেন।
তিনি জানান, এবারের মেলায় অনলাইনে বিভিন্ন ক্যাটাগরির স্টল ও প্যাভিলিয়ন বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে এবং অন-স্পট টিকিটের পাশাপাশি ই-টিকেটিং চালু থাকছে, যাতে অনলাইনে টিকিট কেটে কিউআর কোড স্ক্যান করে প্রবেশ করা যাবে।
মেলা প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত চলবে এবং সাপ্তাহিক ছুটির দিনে রাত ১০টা পর্যন্ত খোলা থাকবে।
দর্শনার্থীদের যাতায়াতের সুবিধার্থে বিআরটিসির ডেডিকেটেড শাটল বাস সার্ভিসের পাশাপাশি কনসেশনাল রেটে পাঠাও সার্ভিস যুক্ত করা হয়েছে।
শাটল বাস কুড়িল বিশ্বরোড, ফার্মগেট, নারায়ণগঞ্জ ও নরসিংদী থেকে প্রতিদিন সকাল ৮টা থেকে ছাড়বে। মেলা প্রাঙ্গণ থেকে শেষ ট্রিপ ছাড়বে রাত ১১টায়।
বিআরটিসির শাটল বাস ভাড়া ফার্মগেট থেকে ৭০ টাকা, কুড়িল বিশ্বরোড থেকে ৪০ টাকা, চাষাড়া থেকে ১২০ টাকা, মুক্তারপুর থেকে ১৩০ টাকা এবং নরসিংদী থেকে ১০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
রপ্তানি খাতের সক্ষমতা ও কার্যক্রম তুলে ধরতে মেলায় একটি এক্সপোর্ট এনক্লেভ নির্মাণ করা হয়েছে এবং সম্ভাবনাময় খাত ও পণ্যভিত্তিক সেমিনার আয়োজনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলেও ব্রিফিংয়ে জানানো হয়।
এবার ভাষা আন্দোলন ১৯৫২, মহান মুক্তিযুদ্ধ এবং ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনে আহত ও শহীদদের স্মরণে স্থিরচিত্র প্রদর্শনের জন্য নির্মাণ করা হয়েছে বাংলাদেশ স্কয়ার।
বিদেশি উদ্যোক্তাদের সুবিধার্থে ইলেকট্রনিক্স ও ফার্নিচার জোন রাখা হয়েছে এবং পণ্য প্রসার ও বিপণনের জন্য উন্মুক্ত সাংস্কৃতিক কেন্দ্র থাকছে।
সিনিয়র সিটিজেনদের জন্য সিটিং কর্নার, শিশুদের জন্য দুটি শিশু পার্ক এবং নারী, প্রতিবন্ধী ও কুটির, তাঁত, বস্ত্র ও হস্তশিল্প উদ্যোক্তাদের জন্য সংরক্ষিত স্টল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।
এবারের মেলায় পলিথিন ব্যাগ ও সিঙ্গেল ইউজ প্লাস্টিক ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে এবং বিকল্প হিসেবে বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে হ্রাসকৃত মূল্যে পরিবেশবান্ধব শপিং ব্যাগ সরবরাহ করা হবে।
তারুণ্যের শক্তি ও উদ্ভাবনী উদ্যোগকে উৎসাহিত করতে মাসব্যাপী মেলায় সেমিনার ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানসহ নানা আয়োজন রাখা হয়েছে।
পঞ্চমবারের মতো পূর্বাচলের বাংলাদেশ-চায়না ফ্রেন্ডশিপ এক্সিবিশন সেন্টারে মেলাটি অনুষ্ঠিত হচ্ছে এবং লে-আউট প্ল্যান অনুযায়ী ৩২৪টি প্যাভিলিয়ন, স্টল ও রেস্টুরেন্ট দেশীয় ও বিদেশি প্রতিষ্ঠানের জন্য শতভাগ স্বচ্ছতায় বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।
হল-এ ও হল-বি নামে ১ লাখ ৫৬ হাজার বর্গফুট আয়তনের দুটি হলে রয়েছে ১৭৪টি স্টল এবং হলগুলোর সম্মুখভাগের উন্মুক্ত স্থানে রয়েছে ৫৩টি প্যাভিলিয়ন ও স্টল।
হলগুলোর পেছনে মূল কম্পাউন্ডের বাইরে ছয় একর এলাকাসহ ফুড জোনে রয়েছে ১০৭টি মিনি প্যাভিলিয়ন, স্টল ও রেস্টুরেন্ট।
মেলায় দেশীয় বস্ত্র, মেশিনারিজ, কসমেটিক্স, ইলেকট্রনিক্স, ফার্নিচার, পাট ও পাটজাত পণ্য, গৃহসামগ্রী, চামড়া ও জুতাজাত পণ্য, খেলনা, প্লাস্টিক, হস্তশিল্প, প্রক্রিয়াজাত খাদ্য, ফাস্টফুড ও হোম ডেকর প্রদর্শিত হবে।
নিরাপত্তা নিশ্চিতে পুলিশ, আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন, র্যাব ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করবেন এবং সিসিটিভি, আর্চওয়ে ও মেটাল ডিটেক্টরের মাধ্যমে নজরদারি জোরদার করা হয়েছে।
পরিচ্ছন্নতার জন্য দুই শতাধিক কর্মী নিয়োজিত থাকবে এবং খাদ্যের মান নিয়ন্ত্রণে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে প্রতিদিন ভেজালবিরোধী মোবাইল কোর্ট পরিচালিত হবে।
মেলায় ৫০০ আসনের ক্যাফেটেরিয়া, ফ্রি প্রাথমিক চিকিৎসা, পর্যাপ্ত পার্কিং, এটিএম বুথ, মা ও শিশু কেন্দ্র, তথ্য কেন্দ্র ও অস্থায়ী সচিবালয় রাখা হয়েছে।
মেলায় প্রবেশ টিকিট প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য ৫০ টাকা ও শিশুদের জন্য ২৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। পাশাপাশি মুক্তিযোদ্ধা, প্রতিবন্ধী ও জুলাই আন্দোলনে আহতরা কার্ড দেখিয়ে বিনামূল্যে প্রবেশ করতে পারবেন বলে জানানো হয়েছে।
দেশীয় পণ্যের প্রচার, প্রসার ও বিপণনের পাশাপাশি কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্য নিয়ে ১৯৯৫ সাল থেকে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর যৌথ উদ্যোগে ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা আয়োজন করা হচ্ছে।


