চট্টগ্রামের বাকলিয়ায় চার বছরের এক শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগে মামলা দায়ের করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার রাতে শিশুটির বাবা মেহেদী হাসান বাদী হয়ে মামলাটি করেন। মামলায় গ্রেপ্তার মনিরকে আসামি করা হয়েছে।
শুক্রবার দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি-দক্ষিণ) হোসাইন মোহাম্মদ কবির ভূঁইয়া।
তিনি বলেন, ‘শিশুটির বাবা বাদী হয়ে মামলা করেছেন। এ ছাড়া পুলিশের গাড়িতে ভাঙচুর ও পুলিশের কাজে বাধা দেওয়ার ঘটনায় আরও দুটি মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।’
পুলিশের এই কর্মকর্তা আরও বলেন, ‘কমিউনিটি সেন্টারে ভাঙচুরের ঘটনায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ মামলা না করলে পুলিশ বাদী হয়ে মামলা করবে। পুলিশের কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগে সাতজনকে আটক করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
জানা গেছে, বৃহস্পতিবার দুপুরে বাকলিয়ার চেয়ারম্যানঘাটা এলাকায় চার বছর বয়সী এক শিশুকে স্থানীয় এক ডেকোরেশন কর্মী ধর্ষণের চেষ্টা করে। খবরটি ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
এদিন বিকাল চারটার দিকে স্থানীয় লোকজন অভিযুক্তের অবস্থান নিশ্চিত করে ‘বিসমিল্লাহ ম্যানশন’ নামে একটি ভবন ঘেরাও করেন। একপর্যায়ে ভবনের কলাপসিবল গেট ভাঙার চেষ্টাও করা হয়।
খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে শিশুটিকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে পাঠায়। একই সময় অভিযুক্তকে আটক করে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে বিক্ষুব্ধ জনতা বাধা দেয় এবং তাকে জনতার হাতে তুলে দেওয়ার দাবি জানায়। বিকাল সাড়ে চারটা থেকে রাত পর্যন্ত পুলিশকে ঘিরে রাখেন স্থানীয়রা।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে রাত আটটার দিকে পুলিশ টিয়ারগ্যাস ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে। এ সময় স্থানীয়দের সঙ্গে পুলিশের দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়। পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপের ঘটনাও ঘটে। এতে পুরো এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়।
পরে রাত ১১টার দিকে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। একপর্যায়ে এলাকায় বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধ করে অভিযুক্তকে পুলিশের পোশাক পরিয়ে থানায় নেওয়া হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ। এ সময় ফাঁকা গুলি, টিয়ারগ্যাস ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করা হয়। স্থানীয়দের একটি অংশ পুলিশের একটি গাড়িতে আগুন দেয়।


