বাংলা ভাষার সঠিক চর্চা, গুণগত মান ও মর্যাদা রক্ষায় আরও সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। তিনি বলেছেন, ‘ভাষা একটি জাতির অস্তিত্ব, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির প্রধান রক্ষক ও বাহক। অসীম ত্যাগ ও শহীদদের পবিত্র রক্তের বিনিময়ে অর্জিত বাংলা ভাষার মর্যাদা অক্ষুণ্ণ রাখতে আমাদের সবাইকে দায়িত্বশীল হতে হবে।’
শুক্রবার দেওয়া এক বাণীতে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে তিনি বাংলাদেশের জনগণ, ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীসমূহ এবং বিশ্বের বিভিন্ন ভাষী মানুষকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছেন।
রাষ্ট্রপতি গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন ভাষা আন্দোলনে শহীদ হওয়া রফিকউদ্দিন আহমদ, আবদুস সালাম, আবুল বরকত, আব্দুল জব্বার, শফিউর রহমানসহ অন্যদের।
তিনি বলেন, ‘ঐতিহাসিক ভাষা আন্দোলন আমাদের অভ্যুদয়ের ইতিহাসে এক গৌরবময় অধ্যায়। ১৯৪৭ সালের দেশভাগের পর পাকিস্তানের দুই অংশের স্বতন্ত্র ভাষাগত ও সাংস্কৃতিক পরিচয় থাকা সত্ত্বেও তৎকালীন শাসকগোষ্ঠী উর্দুকে একমাত্র রাষ্ট্রভাষা ঘোষণা করে। মাতৃভাষাকে দমনের এই অন্যায্য প্রচেষ্টা পূর্ব পাকিস্তান–আজকের বাংলাদেশের ছাত্রসমাজ ও সাধারণ মানুষের মধ্যে গভীর জাতীয় চেতনা জাগিয়ে তোলে। সুদৃঢ় প্রতিরোধ ও আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে তারা মাতৃভাষার অধিকার প্রতিষ্ঠা করেন এবং স্বতন্ত্র জাতীয় চেতনার ভিত্তি রচনা করেন।’
রাষ্ট্রপতি উল্লেখ করেন, ভাষা আন্দোলন ছিল জাতীয় পরিচয়, স্বকীয়তা ও সাংস্কৃতিক অনন্যতা রক্ষার সংগ্রাম। একুশের চেতনা থেকেই স্বাধিকার আন্দোলন, মুক্তিসংগ্রাম এবং মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে আমরা অদম্য প্রেরণা ও সাহস পেয়েছি।
‘১৯৯৯ সালে ইউনেস্কো ২১ ফেব্রুয়ারিকে “আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস” হিসেবে স্বীকৃতি দেয়, যা জাতির জন্য গর্বের অর্জন। আজ একুশের চেতনা বিশ্বজুড়ে নিজ নিজ ভাষা ও সংস্কৃতি সংরক্ষণে অনুপ্রেরণা জোগাচ্ছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘উন্নত বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে এগিয়ে যেতে বাংলার পাশাপাশি আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ভাষাগুলোতেও দক্ষতা অর্জন প্রয়োজন।’
রাষ্ট্রপতি আশা প্রকাশ করেন, আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উদযাপন একটি সমৃদ্ধ জাতি গঠন ও টেকসই ভবিষ্যৎ নির্মাণে অর্থবহ ভূমিকা রাখবে।
একুশের চেতনা বিশ্বজুড়ে ভাষা ও সংস্কৃতির মানুষের মধ্যে পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ জাগ্রত করুক এবং দেশ ও জাতির কল্যাণ বয়ে আনুক–মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে এটাই তার প্রত্যাশা।


