বাংলাদেশে অনুপ্রবেশের দায়ে ভারতের নাগরিক রামদেব মাহাতোর কারাদণ্ড হয়েছিল ছয় মাস। সেই সাজা তাকে ভোগ করতে হলো ছয় বছর।
দীর্ঘদিন কারাগারে বন্দী থাকার পর নিজের দেশে ফিরলেন রামদেব। তাকে দেশে ফিরতে সহায়তা করেন বাংলাদেশের সাংবাদিক ও মানবাধিকারকর্মী শামসুল হুদা।
চাঁপাইনবাবগঞ্জের সীমান্ত দিয়ে অনুপ্রবেশের দায়ে ৬০ বছর বয়সী রামদেবের ২০১৮ সালের ২৯ নভেম্বর ছয় মাসের কারাদণ্ড হয়। ২০১৯ সালের ২৯ মে সাজা শেষ হলেও সঠিক ঠিকানা না থাকায় প্রত্যাবাসনে জটিলতা তৈরি হয়। তাই সাজা শেষ হলেও কারাগারেই রয়ে যান তিনি। অবশেষে সোমবার দুপুরে সোনামসজিদ স্থলবন্দর দিয়ে তাকে ভারতীয় কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
রামদেব মাহাতো ভারতের বিহার রাজ্যের পশ্চিম চাম্পারণ জেলার মাঝুরিয়ার গুদ্রা গ্রামের মৃত তাপা মাহাতোর ছেলে। সোনামসজিদ স্থলবন্দর জিরো পয়েন্টে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ও ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) উপস্থিতিতে তাকে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন রামদেবের ছেলে সুনীল মাহাতো, গ্রাম পঞ্চায়েত প্রধান লাল বাচ্চা যাদব, দুই দেশের পুলিশ কর্মকর্তা, কারাগারের প্রতিনিধি এবং রামদেব মাহাতোকে নিজ দেশে পাঠানোতে সহায়তাকারী সাংবাদিক ও মানবাধিকারকর্মী শামসুল হুদা।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ কারা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, রামদেব মাহাতোর সঠিক ঠিকানার তথ্য লিপিবদ্ধ না থাকায় কারাভোগ শেষে তাকে নিজে দেশে ফেরত পাঠানো সম্ভব হয়নি। এমন জটিলতার কারণে আরও কয়েকজন ভারতীয় নাগরিক নিজ দেশে ফেরার অপেক্ষায় রয়েছেন। তাদেরও ঠিকানা ও পরিবারের তথ্য না থাকায় ফেরত পাঠানো সম্ভব হচ্ছে না।
শামসুল হুদা বলেন, ‘গত বছরের অক্টোবরে রামদেব মাহাতোর বিষয়টি জানতে পেরে তথ্য প্রযুক্তির মাধ্যমে তার পরিচয় উদ্ধার করে ঢাকায় অবস্থিত ভারতীয় দূতাবাসকে জানাই। গ্রাম পঞ্চায়েত ও তার পরিবারকে ছবি পাঠিয়ে নিশ্চিত করার পর মাহাতোর ছেলে সুনীল জানান, তার বাবা বাংলাদেশের কারাগারে থাকার বিষয়টি তিনি জানতেন না। তাদের ধারণা ছিল, বাবা বোধ হয় মারা গেছেন। তিনি কিছুটা মানসিক ভারসাম্যহীন ছিলেন বলেও জানান সুনীল।’
শামসুল হুদা আরও জানান, সাজা শেষ হওয়ার পরও একজন ব্যক্তি প্রায় সাড়ে ছয় বছর কারাভোগ করছেন এবং পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন রয়েছেন, বিষয়টি অত্যন্ত অমানবিক। মানবিক কারণে গত চার বছরে তিনি এমন ১০ থেকে ১২ জন ভারতীয় নাগরিককে কারাগার থেকে মুক্ত করে ভারতে পাঠিয়েছেন। পাচার হওয়া চার বাংলাদেশি নারীকেও দেশে ফিরিয়ে এনেছেন।


