নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ জানাতে ভারতে বাংলাদেশের হাইকমিশনার এম রিয়াজ হামিদুল্লাহকে তলব করেছে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
বুধবার ঢাকার ভারতীয় হাইকমিশনের উদ্দেশে ‘মার্চ টু ইন্ডিয়ান হাইকমিশন’ কর্মসূচি আয়োজনের পরিকল্পনাকে কেন্দ্র করে এ উদ্বেগ জানায় ভারত সরকার।
জুলাই ঐক্যর ব্যানারে বুধবার দুপুর ৩টার দিকে ঢাকার রামপুরা ব্রিজ থেকে ভারতীয় হাইকমিশনের দিকে পদযাত্রার পরিকল্পনা করেছে সংগঠনটির সদস্যরা।
এ কর্মসূচি ঘিরে নিরাপত্তা শঙ্কা জানিয়ে দুপুর ২টা থেকে যমুনা ফিউচার পার্কের ভারতীয় ভিসা সেন্টার বন্ধ রাখার ঘোষণা দিয়েছে আইভ্যাক-জেএফপি।
এদিকে গত রোববার বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বাংলাদেশে ভারতীয় হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মাকে তলব করেছিল।
আসন্ন সংসদ নির্বাচন বানচাল করতে ভারতে বসে ক্ষমতাচ্যুত শেখ হাসিনার ‘উস্কানিমূলক’ বক্তব্যের বিষয়ে গুরুতর উদ্বেগ জানাতে তাকে তলব করা হয়।
এরপর সোমবার ন্যাশনাল সিটিজেন পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সমন্বয়ক হাসনাত আবদুল্লাহর ‘ভারতবিরোধী’ মন্তব্য করলে নিরাপত্তা শঙ্কা জানান ভারতীয় হাইকমিশনের কর্মকর্তারা।
এক জনসমাবেশে ‘সেভেন সিস্টার্স’ নামে পরিচিত ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলো ভারতের মানচিত্র থেকে বিচ্ছিন্ন করার হুঁশিয়ারি দেন হাসনাত। বাংলাদেশের স্বার্থে আঘাত এলে ওই অঞ্চলের বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠীগুলোকে আশ্রয় দেওয়ার কথাও বলেন তিনি।
ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বাংলাদেশের নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতি নিয়ে ভারতের গভীর উদ্বেগ এরইমধ্যে হাইকমিশনারকে অবহিত করা হয়েছে। বিশেষ করে কিছু ‘উগ্রপন্থি’ গোষ্ঠীর কার্যকলাপের দিকে দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলা হয়, এসব গোষ্ঠীর সদস্যরা ঢাকায় ভারতীয় মিশনের চারপাশে নিরাপত্তা উদ্বেগ তৈরি হওয়ার মতো পরিস্থিতি তৈরির ঘোষণা দিয়েছে।
বিবৃতিতে আরও দাবি করা হয়, বাংলাদেশের সাম্প্রতিক কিছু ঘটনা নিয়ে ‘উগ্রপন্থি’ গোষ্ঠীগুলো ভুয়া ও বিভ্রান্তিকর বর্ণনা তৈরি করার চেষ্টা করছে। এসব বর্ণনা ভারত সম্পূর্ণভাবে প্রত্যাখ্যান করে বলেও জানানো হয় বিবৃতিতে। অন্তর্বর্তী সরকার এখনো এই ঘটনাগুলোর কোনো পূর্ণাঙ্গ তদন্ত করেনি বা ভারতের কাছে উল্লেখযোগ্য কোনো প্রমাণ তুলে ধরেনি বলেও দাবি করে ভারত সরকার।
এ সময় ভারত ও বাংলাদেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের কথা স্মরণ করে বাংলাদেশের শান্তি ও স্থিতিশীলতার পক্ষে এবং অবাধ, সুষ্ঠু ও বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠানের প্রত্যাশার কথা পুনর্ব্যক্ত করে ভারত।
কূটনৈতিক বাধ্যবাধকতা অনুযায়ী, অন্তর্বর্তী সরকার ভারতের সব কূটনৈতিক মিশন ও পোস্টের নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে- এমন প্রত্যাশাও জানিয়েছে দেশটি।


