বরিশালে পরকীয়ার জেরে স্ত্রীকে হোটেলে নিয়ে হত্যা মামলায় স্বামী স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) সাবেক প্রকৌশলীকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত।
সোমবার দুপুরে বরিশাল দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল এই রায় ঘোষণা করেন। একই মামলায় অন্য আসামি হোটেল ম্যানেজার আবদুল মালেককে পাঁচ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
রায় ঘোষণার সময় দুই আসামি আদালতে উপস্থিত ছিলেন। তাদের বরিশাল কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের সরকারি আইন কর্মকর্তা (পিপি) মহাসিন মন্টু জানান, ২০১০ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি বরিশাল নগরীর সদর রোডে হোটেল আলী ইন্টারন্যাশনালের একটি কক্ষে পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার বাসিন্দা প্রকৌশলী জহিরুল ইসলাম তার স্ত্রী নাজমা জহির শোভাকে ছুরিকাঘাতে হত্যা করেন।
এই ঘটনায় নিহতের বোন নিলুফা আইরিন বাদী হয়ে একই দিন কোতয়ালী মডেল থানায় মামলা করেন। মামলায় পুলিশ নিহতের স্বামী জহিরুল ইসলাম ও হোটেল ম্যানেজার আবদুল মালেককে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে।
আদালত ১৩ জন সাক্ষীর মধ্যে ১০ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে সোমবার রায় ঘোষণা করেন।
বাদী পক্ষের আইনজীবী মো. আনোয়ার হোসেন মিজান রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, নিহত নাজমা জহির শোভার ছোট বোন রুমা আক্তারের সঙ্গে জহিরুল ইসলামের পরকীয়া প্রেম ছিল। ওই সময় তিনি বরিশাল এলজিইডির প্রকৌশলী ছিলেন।
তিনি জানান, পরকীয়া জেনে ফেলায় ঘটনার দিন স্ত্রী শোভাকে হোটেল আলী ইন্টারন্যাশনালের পঞ্চম তলার একটি কক্ষে নিয়ে গলা কেটে হত্যা করেন জহিরুল। এই ঘটনায় গ্রেপ্তারের পর আসামি আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছিলেন।
আইনজীবী মিজান আরও বলেন, হোটেল কার্যক্রম পরিচালনায় ম্যানেজারের বিরুদ্ধে অনিয়মের প্রমাণ মিলেছে। এ কারণে তাকেও পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
দীর্ঘ বিচার কার্যক্রম শেষে হত্যাকাণ্ডের প্রায় ১৬ বছর পর আদালত এই রায় ঘোষণা করেন।
বাদী পক্ষের আইনজীবী বলেন, রায় ঘোষণার সময় দুই আসামি আদালতে উপস্থিত ছিলেন। আদালতের এই রায়ে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। এ কারণে তারা রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করবেন না।


