গুলশানে এক শিল্পপতির বাসায় ঢুকে তার স্ত্রী-সন্তানদের মারধর ও ফ্ল্যাট দখলের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে পদ স্থগিত থাকা বিএনপি নেতা গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরীর দুই ছেলের বিরুদ্ধে।
এ অভিযোগে সামির কাদের চৌধুরী ও শাকির কাদের চৌধুরীসহ নয় জনকে আসামি করে মামলা করেছেন প্রয়াত শিল্পপতি মাইনুল ইসলামের স্ত্রী ফারজানা আন্না ইসলাম।
সোমবার ঢাকার অতিরিক্ত মুখ্য মহানগর হাকিম মো. জিয়াদুর রহমানের আদালতে এই মামলা করা হয় বলে জানিয়েছেন বাদীর আইনজীবী মোরশেদ হোসেন শাহীন।
তিনি বলেন, ‘আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে সিআইডিকে অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত করে আগামী এক মাসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার আদেশ দিয়েছেন।’
মামলার অন্য আসামিরা হলেন-কেশব চন্দ্র নাথ, সামসুল আলামিন রিয়েল এস্টেট লিমিটেডের প্রোপ্রাইট আরেফিন সামসুল আলম, হারুন অর রশীদ, মেরিনা ইরশাদ, ফেরদৌস মুনসি, ছালাউদ্দিন আব্বাছি ও শাহাবুদ্দিন।
গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরী যুদ্ধাপরাধের দায়ে মৃত্যুদণ্ড পাওয়া বিএনপির আরেক নেতা সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরীর ভাই। তিনি বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির ভাইস চেয়ারম্যানও ছিলেন। তবে গত জুলাই মাসে চট্টগ্রামের রাউজানে দুই পক্ষের সংঘর্ষ ঘিরে সৃষ্ট পরিস্থিতির জেরে তার এই পদ স্থগিত করা হয়।
মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, ২০০৬ সালে ঢাকার গুলশান মডেল টাউন এলাকায় ছয়তলা ভবন নির্মাণের জন্য আরেফিন সামসুল আলমের সাথে মাইনুল ইসলাম এবং ফারজানা আন্না ইসলাম দম্পতি চুক্তিপত্র সম্পাদন করেন। পরে ২০০৭ সালের ১৯ ডিসেম্বর তারা বাড়িটি বুঝে পান। মাইনুল ইসলাম ২০০৮ সালের ২৪ মার্চ মৃত্যুবরণ করেন। তার মৃত্যুর পর সামসুল আলম অন্য আসামিদের সাথে নিয়ে বাড়ির ফ্ল্যাট দখলের অপচেষ্টা করতে থাকেন। আসামিরা জাল দলিল তৈরি করে বাড়ির দ্বিতীয় তলার সম্পূর্ণ ফ্লোর দখল করার চেষ্টা করেন।
২০২৪ সালের জুলাই অভ্যুত্থানের পর আসামিরা আরও বেপরোয়া আচরণ করতে থাকে। গত ১৪ জুলাই তারা ওই বাড়িতে প্রবেশ করে আতঙ্ক সৃষ্টি করে ফ্ল্যাটগুলোর তালা ভেঙে দখল করার চেষ্টা করেন। এসময় তারা ৫ কোটি টাকা চাঁদা দাবি করেন।
এছাড়াও মামলার বাদী ফারজানা আন্না ইসলামকে বিভিন্ন ধরনের হুমকি দেওয়া হয় বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে।
সেখানে আরও বলা হয়, গত ২৮ আগস্ট আবারও তারা বাসায় প্রবেশ করে হামলা করে এবং বাসায় থাকা লোকজনদের জখম করে। এসময় তারা ১০ লাখ টাকা, ১০ ভরি স্বর্ণের জিনিসপত্র লুটপাট করে নিয়ে যায়। পরে ৫ কোটি টাকা চাঁদা না দিলে ফ্ল্যাটগুলো দখল করে নেওয়ার হুমকি নেয়। চলে যাওয়ার সময় আসামিরা বাসার নিচের গ্যারেজে ভাঙচুর চালায়। এতে করে প্রায় তিন কোটি টাকার ক্ষতি হয়। পরবর্তীতে ভুক্তভোগীরা কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসা নেন।


