গত শুক্রবার মিরপুর শেরে বাংলা স্টেডিয়ামের প্রেসিডেন্টস বক্সে বসে অদম্য বাংলাদেশ টি-টোয়েন্টি কাপের ম্যাচ দেখছিলেন বিসিবির তিন পরিচালক খালেদ মাসুদ পাইলট, ফারুক আহমেদ ও এম নাজমুল ইসলাম। মাঝে বসে আছেন একজন নারী ও এক শিশু। ম্যাচ শেষ হতেই সামাজিক যোগাযাগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে দ্য ডেইলি সানের ফটো সাংবাদিক তানভিন তামিমের তোলা একটি ছবি। যেখানে দেখা যায় নানান কারণে সাম্প্রতিক সময়ে বিতর্কিত নাজমুলের দিকে আঙুল তুলে কিছু একটা বলছেন বিসিবি সহ-সভাপতি ফারুক।
যেহেতু বিতর্কিত বিভিন্ন মন্তব্য করে সমালোচিত হয়েছেন নাজমুল, সেই হিসেবে বিসিবিতেও তার ভূমিকা নিয়ে অসন্তোষ আছে। বিসিবি সূত্রে জানা গেছে, কমপক্ষে দশ জন পরিচালক এই মুহূর্তে তাকে তার বোর্ডে চাইছেন না। আর ছবিটাও এসেছে এমন এক মুহূর্তে, এর আগের দিনই এক সাক্ষাৎকারে আম্পায়ারদের বর্ধমান ম্যাচ ফি নিয়ে আপত্তি জানিয়েছেন বিসিবির অর্থ কমিটির চেয়ারম্যান নাজমুল।
যদিও ক্যামেরায় তোলা হয়েছে, তবুও আলোচিত সেই ছবি্র উৎস নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন সাবেক বাংলাদেশ অধিনায়ক ফারুক। রোববার পুর্বাচলের ক্রিকেটার্স একাডেমিতে সিসিডিএম চ্যালেঞ্জ কাপের ফাইনাল দেখতে গিয়ে সাংবাদিকদের সেই ছবি নিয়ে তিনি বলেন, ‘ছবিটা আমার মনে হয় কিছু এআই করা হয়েছে ছবিটাতে। আসলে এরকম কোন সিচুয়েশন হয়েছে।’
আলোচিত ছবির পেছনের কাহিনি ব্যাখা করে শনিবার নিজের ফেসবুক পেইজে পাইলট বলেন, ‘আপনারা একটা ছবি দেখেছেন, মোটামুটি ভাইরাল হয়েছে ফেসবুকে। আমি, আমার ক্যাপ্টেন ফারুক ভাই এবং নাজমুল ভাই ডিরেক্টর। তিনজন মিলে প্রেসিডেন্ট বক্সে কথা বলছিলাম। আমার বা ফারুক ভাইয়ের থেকে কখনো এমন কোনো উচ্চবাক্য বা নেতিবাচক কথা হয়নি। আমরা শুধু নিজেদের মধ্যে আলোচনা করছিলাম রংপুর মাঠ, তার ফিউচার প্ল্যান নিয়ে।’
ফারুকও জানালেন সেই কথাই। তিনি বলেন, ‘যেটা পাইলট বলেছে, সেটা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। একাধিকবার আপনাদের যার যার সাথে কথা হয়েছে আমিও বলেছি আমাদের আমরা রংপুর গার্ডেনে গিয়েছিলাম এবং ঢাকা স্টেডিয়ামের যে ফেসিলিটিগুলো আছে রংপুর গার্ডেনে যে যে আমরা দেখে এসেছি ওইটা নিয়ে আলোচনা করছিলাম।’
তবে এরপর আরো একবার ছবি নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন ফারুক। তার চোখে ধরা পড়া কিছু অসঙ্গতি নিয়ে তিনি বলেন, ‘আপনি ছবিটা যদি ভালো করে খেয়াল করেন, আমার আঙ্গুলটা এটা আমার আঙ্গুল না। এই আঙ্গুলটা কোত্থেকে আসছে আমি জানি না। দ্বিতীয়ত, আপনার সামনে নির্লিপ্তভাবে একজন ভদ্রমহিলা আর তার বাচ্চা নিয়ে খেলা দেখছে। তার মাঝখানে দুইজন মানুষ এটা কিভাবে সম্ভব? কোন ভদ্রলোক এই কাজটা করতে পারে না আমার মনে হয়।’
এই ছবি তোলার জন্য ফটো সাংবাদিক তামিমকে গত শনিবার সতর্ক করে চিঠি দিয়েছেন বিসিবির নিরাপত্তা বিভাগের প্রধান কাজী শামীম ফরহাদ। এ নিয়েও প্রশ্ন করা হয়েছে ফারুককে। যদিও তিনি সব নিয়ে অবগত নন বলে জানিয়েছেন।
ফারুক বলেন, ‘ছবিটা সত্যি হয়ে থাকলে ওয়ার্ন করা ঠিক আছে। আর যদি এআই হয়, তাহলে দোষের কিছু দেখি না। আর বোর্ড থেকে যে ওয়ার্নিং দেয়াহয়েছে এটা নিয়ে আসলে আমি খুব বেশি কিছু জানি না। আমার মনে হয় আপনার ডিসিপ্লিনের ওইখান থেকে ওয়ার্ন করা হয়েছে।’
ফারুক আরো বলেন, ‘আপনাদের আমি সবাইকে অনুরোধ করছি এই ধরনের কোন কনফিউশন করার সৃষ্টি করার কোন দরকার নাই আমার মনে হয়।’
এই প্রসঙ্গে তানভিন তামিম টাইমস অফ বাংলাদেশকে বলেন, ‘আমি আমার মতোই কাজ করছিলাম। আর দশটা ছবির মতো এটাও তুলেছিলাম। তারপর স্পোর্টস এডিটরকে পাঠিয়েছি। সাধারণত গ্যালারির ছবি, প্রেসিডেন্ট বক্সের ছবি আমরা তুলি। দর্শক, প্রেসিডেট, ডিরেক্টররাও আসেন। আমার কাজ হচ্ছে ছবি তোলা। কে কোথায় থাকব, সেটা তো আর আমাদের হাতে নেই। আমি যতটুকু জানি, ম্যাচের সময় আমি শুধু প্লেয়ার্স ডাগ আউটের ছবি তুলতে পারব না, ডাগ আউটের সামনে যেতে পারব না। এছাড়া গ্রাউন্ডের বাকি জায়গায় এক্সেস আছে।’
অদম্য বাংলাদেশ টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্টের প্রথম দিনের খেলা চলাকালীন প্রেসিডেন্ট বক্সের বারান্দায় বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুলের সাথে দাঁড়িয়ে ম্যাচ দেখছিলেন পরিচালক আসিফ আকবর ও রুবাবা দৌলা। সেই ছবিও একই ফটো সাংবাদিকের তোলা। সেই ছবি নিয়ে কোনো ধরনের সতর্কতা না পেলেও একই জায়গায় তোলা একদিন পরের ছবি নিয়ে বিসিবি আপত্তি তোলায়, প্রশ্ন ছুঁড়েছেন তামিম।
তরুণ এই ফটো সাংবাদিক বলেন, ‘এর দুই দিন আগেও আমি প্রেসিডেন্ট বক্সে দাঁড়িয়ে থাকা তিনজন ডিরেক্টরের ছবি তুলেছি এবং অনেকে সেই ছবি পোস্টও করেছে। পরের ম্যাচে একই ডিউটি করেছি, কিন্তু এখানেই তাদের আপত্তি। তারা যদি বলে দেয়, কী ছবি তুলব আর কী ছবি তুলব না তাহলে তো অন্যরকম। আর এখানে স্বাধীনতার ব্যাপারটাও চলে আসে।’


