সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে শুক্রবার।
তিন পার্বত্য জেলা ছাড়া দেশের বাকি ৬১ জেলায় একযোগে বিকাল ৩টা থেকে এই পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। ১৪ হাজার ৩৮৫টি শূন্য পদের বিপরীতে ১০ লাখ ৮০ হাজার ৮০ জন প্রার্থী এই পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছেন।
এদিকে পরীক্ষা সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে ও প্রশ্নফাঁস ঠেকাতে ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছে প্রশাসন। কোথাও কোথাও ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে। অন্যদিকে প্রশ্নপত্র ফাঁসের চেষ্টার অভিযোগে উপদেষ্টা পদমর্যাদার এক ব্যক্তির প্রাক্তন গাড়িচালককে আটক করেছে যৌথ বাহিনীর সদস্যরা।
প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর জানিয়েছে, শুক্রবার বেলা ৩টা থেকে বিকেল ৪টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। বেলা ৩টায় শুরু হলেও পরীক্ষার্থীদের দুপুর ২টার মধ্যে কেন্দ্রে প্রবেশ করতে হবে। দুপুর ২টা ৩০ মিনিটে কেন্দ্রের প্রধান প্রবেশপথ বন্ধ করে দেওয়া হবে, এরপর আর কাউকে ঢুকতে দেওয়া হবে না। এবার গড়ে প্রতিটি শূন্য পদের বিপরীতে লড়াই করবেন প্রায় ৭৫ জন চাকরিপ্রার্থী।
সারা দেশে পরীক্ষা সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে জেলা প্রশাসনগুলো ভিন্ন ভিন্ন কৌশল অবলম্বন করেছে। জালিয়াতি ঠেকাতে ফরিদপুরে কোন কক্ষে কোন শিক্ষক দায়িত্ব পালন করবেন, তা আগে থেকে নির্ধারণ করা হবে না। পরীক্ষা শুরুর মাত্র আধঘণ্টা আগে জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে লটারির মাধ্যমে পরিদর্শকদের কক্ষ বণ্টন করা হবে।
পরীক্ষা সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে গাইবান্ধায় ১৪৪ ধারা জারি করেছে জেলা প্রশাসন। বৃহস্পতিবার রাতে জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ মাসুদুর রহমান মোল্লা স্বাক্ষরিত এ-সংক্রান্ত একটি আদেশ জারি করা হয়।
ময়মনসিংহ অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) লুৎফুন নাহার জানান, প্রতিটি কেন্দ্রে একজন করে ম্যাজিস্ট্রেট ও পর্যাপ্ত পুলিশ সদস্য মোতায়েন থাকবেন। কুড়িগ্রামের প্রতিটি কেন্দ্রে জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের পাশাপাশি প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা তদারক করবেন। রংপুরে নেওয়া হয়েছে বিশেষ নিরাপত্তাব্যবস্থা।
এদিকে প্রশ্নপত্র ফাঁসের চেষ্টার অভিযোগে প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী (উপদেষ্টা পদমর্যাদা) আলী রীয়াজের সাবেক গাড়িচালক মাহবুবকে আটক করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার বিকালে তাকে ঢাকার পাবলিক সার্ভিস কমিশন (পিএসসি) ভবনের সামনে থেকে আটক করা হয়। পরে তার দেওয়া তথ্যে এই চক্রের হোতা বিল্লাল হোসেনকে টাঙ্গাইল থেকে র্যাব গ্রেপ্তার করে। অভিযোগ রয়েছে, বিল্লাল–মাহবুব চক্র প্রশ্নপত্র ফাঁসের কথা বলে বিভিন্ন চাকরিপ্রার্থীর কাছ থেকে টাকা নিচ্ছিলেন।
অন্যদিকে প্রশ্নপত্র ফাঁসের শঙ্কার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর। অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আবু নূর মো. শামসুজ্জামান গণমাধ্যমকে বলেন, ‘প্রায় ১১ লাখ প্রার্থীর নিয়োগ পরীক্ষা নির্বিঘ্নে নেওয়া সত্যিই বড় চ্যালেঞ্জ। আমরা এবার সর্বোচ্চ সতর্ক রয়েছি। ইতোমধ্যে ৬১ জন জেলা প্রশাসককে সুনির্দিষ্ট দায়িত্ব ভাগ করে দেওয়া হয়েছে। প্রশ্নপত্র প্রতিটি জেলার ট্রেজারিতে কড়া পাহারায় সংরক্ষিত আছে। জালিয়াতি রুখতে জেলা প্রশাসনের পাশাপাশি কেন্দ্রীয়ভাবেও তদারকি বাড়ানো হয়েছে।’
এর আগে গত ২ জানুয়ারি এই নিয়োগ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু বিএনপির চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে সরকার ঘোষিত তিন দিনের রাষ্ট্রীয় শোকের কারণে পরীক্ষা পিছিয়ে ৯ জানুয়ারি সকাল ১০টায় নির্ধারণ করা হয়। পরে গত রবিবার প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় জানায় পরীক্ষা সকালে নয় বিকালে অনুষ্ঠিত হবে।


