প্রথমবারের মতো ডিএজি-এএজিদের কর্মদক্ষতা মূল্যায়নে পরীক্ষা

প্রথমবারের মতো ডিএজি-এএজিদের কর্মদক্ষতা মূল্যায়নে পরীক্ষা
Advertisement
Advertisement

অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয়ে কর্মরত ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল (ডিএজি) ও সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেলদের (এএজি) কর্মদক্ষতা মূল্যায়নে পরীক্ষা (পারফরম্যান্স ইভ্যালুয়েশন টেস্ট) শুরু হয়েছে, চলবে ২ এপ্রিল পর্যন্ত।

মঙ্গলবার দুপুর আড়াইটা থেকে ডিএজিরা এ পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেন। রাত সোয়া আটটায় সর্বশেষ প্রাপ্ত তথ্য মতে, ৫৯ জনের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছে। রাতেই ডিএজিদের পরীক্ষা শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। আগামীকাল ১ মার্চ ও ২ মার্চ এএজিদের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে।

অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয়ের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত ২৯ মার্চের এক জরুরি নোটিশ থেকে এ তথ্য জানা গেছে। আইনজীবীরা বলছেন, ডিএজি ও এএজিদের কর্মদক্ষতা মূল্যায়ন পরীক্ষা নেওয়ার এ ঘটনা এটিই প্রথম।

এর আগে সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মো. রুহুল কুদ্দুস কাজলকে ২৫ মার্চ অ্যাটর্নি জেনারেল পদে নিয়োগ দেন রাষ্ট্রপতি। অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে যোগ দেওয়ার পর তিনি এই কর্মদক্ষতা মূল্যায়নের উদ্যোগ নেন।

আরও পড়ুন

অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয়ের প্রশাসনিক কর্মকর্তা স্বাক্ষরিত জরুরি নোটিশের ভাষ্য, অ্যাটর্নি জেনারেলের নির্দেশনায় ডিএজি ও এএজিদের ৩১ মার্চ থেকে ২ এপ্রিল পর্যন্ত কর্মদক্ষতা মূল্যায়ন পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। অ্যাটর্নি জেনারেল ও তিনজন অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেলের সমন্বয়ে গঠিত বোর্ড এই পরীক্ষা নেবে বলে জরুরি নোটিশে উল্লেখ করা হয়।

ডিএজি ও এএজিদের নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী বোর্ডের সামনে উপস্থিত হতে অনুরোধ করা হয় নোটিশে। অ্যাটর্নি জেনারেল রুহুল কুদ্দুস কাজল ছাড়া বোর্ডের অপর তিন সদস্য হলেন অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল মুহাম্মদ আবদুল জব্বার ভুঞা, মোহাম্মদ আরশাদুর রউফ ও অনীক আর হক।

উল্লেখ্য, বর্তমানে ১০৩ জন ডিএজি, ২৩০ জন এএজি ও তিনজন অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল রয়েছেন। ‘অ্যাটর্নি জেনারেল’স অফিস: অ্যা পলিটিক্যাল রিহ্যাব সেন্টার?’ শিরোনামে গত ৫ জানুয়ারি ডেইলি টাইমস অব বাংলাদেশে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। রিপোর্টে উঠে আসে, সুপ্রিম কোর্টে রাষ্ট্রের পক্ষে মামলা লড়তে অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে প্রায় সাড়ে তিনশ আইন কর্মকর্তা নিয়োগ করা হয়েছে। এর মধ্যে ৭০ জনের বেশি আইন কর্মকর্তা আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। দুই শতাধিক আইন কর্মকর্তা বিএনপি-জামায়াতের সক্রিয় অনুসারী। অনেক সংখ্যক আইন কর্মকর্তা নিয়োগ হলেও অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয়ে তাদের স্থান সংকুলান হয় না। বসার জায়গা না পেয়ে অনেকেই নিজের চেম্বারে বসে অ্যাটর্নি জেনারেল অফিসের কাজ সারেন। এই আইন কর্মকর্তাদের মধ্যে সিংহভাগই বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে জড়িত। ফলে প্রশ্ন উঠেছে, প্রয়োজনের অতিরিক্ত ব্যাপক সংখ্যক নিযুক্তির ফলে অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয় রাজনৈতিক কর্মীদের পুনর্বাসন কেন্দ্র হয়ে উঠেছে কি না। রাষ্ট্রের অর্থ ব্যয় করে এমন বিলাসিতা কেন?

ঢাউস সংখ্যক আইন কর্মকর্তার বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে ২৯ মার্চ অ্যাটর্নি জেনারেল রুহুল কুদ্দুস কাজল সাংবাদিকদের বলেন, নতুন সরকার ক্ষমতায় আসার পর মাত্রই অ্যাটর্নি জেনারেল পদে নিয়োগ হলো। সরকার নিশ্চয়ই সামনে চিন্তা করবে, এই অফিস কার্যকরভাবে চালাতে কতসংখ্যক আইন কর্মকর্তা দরকার।

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর
Ad