বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, পিআর (সংসদে সংখ্যানুপাতে আসন বিন্যাস) পদ্ধতির আন্দোলনের লক্ষ্যই হচ্ছে ‘নির্বাচন বিলম্বিত’ করা। তিনি বলেন, ‘পিআর পদ্ধতি এই দেশের মানুষ গ্রহণ করবে না। আমাদের দলের পক্ষ থেকে আমরা স্পষ্ট করে বলেছি, এখনও বলছি, জনগণ এই পদ্ধতি গ্রহণ করবে না, চাপিয়ে দেওয়া কোনো কিছু এ দেশের মানুষ গ্রহণ করবে না।’
রোববার দুপুরে এক আলোচনা সভায় বিএনপির মহাসচিব এ সব কথা বলেন। ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি কার্যালয়ের মিলনায়তনে ন্যাশনাল পিপলস পার্টির উদ্যোগে ডেমোক্রেটিক লীগের সাধারণ সম্পাদক সাইফুদ্দিন আহমেদ মনির দ্বিতীয় মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষ্যে এই আলোচনা সভা হয়। ২০২৩ সালের এ দিনে মনি মারা যান।
আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে মির্জা ফখরুল আরো বলেন, ‘কয়েকটি রাজনৈতিক দল পিআর পদ্ধতি নিয়ে কথা বলছে এবং আন্দোলন করছে। এর লক্ষ্য একটাই, সেই লক্ষ্য হচ্ছে, নির্বাচনকে বিলম্বিত করা। জনগণের ক্ষমতা জনগণের হাতে ফিরিয়ে দেওয়ার যে প্রক্রিয়া, সেই প্রক্রিয়াকে বিলম্বিত করা।’
আশা প্রকাশ করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘এ সরকারের মুহাম্মদ ইউনুস সাহেবের যে প্রতিশ্রুতি, ২৬ সালের ফেব্রুয়ারি মাসের মধ্যেই এই নির্বাচন হবে, আমরা সেটাই দেখতে চাই। তিনি বলেন, ‘জনগণ নির্বাচন দেখতে চায় এবং সেই নির্বাচনের মধ্য দিয়ে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় ফিরে যেতে চায়। গণতন্ত্রের মধ্য দিয়েই জনগণের আশা আকাংখাগুলো পূরণ করতে চায়।’
ফখরুল বলেন, ‘আমরা জানি যে নির্বাচন হবে। সেই নির্বাচনে জনগণের ইচ্ছায় যে কোন দল জয়ী হতে পারে। কিন্তু যে দল পরীক্ষিত ,অতীতে যারা পরীক্ষা দিয়েছে, অর্থাৎ সরকারে ছিল, কাজ করেছে, জনগণ বেছে নেবে সে দলকে।’
তিনি বলেন, ‘শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানই এই দেশে প্রথম সংবিধানে বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম সংযোজন করেছিলেন, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানি প্রথম এই দেশের সংবিধানে আল্লাহর উপর অবিচল আস্থা ও অবিশ্বাস এই কথাটি রেখে তিনি আল্লাহর উপর বিশ্বাস স্থাপন করার জন্য নিয়ে এসেছিলেন। এখন কিছু দল সেগুলোকে বিকৃত করে বিভিন্নভাবে এই বিএনপিকে চিত্রায়িত করার চেষ্টা করছে।’
তিনি আরো বলেন, ‘অনেক ষড়যন্ত্র আছে, চক্রান্ত আছে। সমস্ত ষড়যন্ত্র, চক্রান্তকে পরাজিত করার শক্তি বাংলাদেশের মানুষের আছে। তিনি বলেন, ‘সামনের যে পরীক্ষা, সেটি অনেক কঠিন পরীক্ষা। প্রতিদিন ইউটিউব, টেলিভিশন, সোশ্যাল মিডিয়া.. এগুলোতে বিভিন্ন রকম সত্য-মিথ্যা মিথ্যা অপপ্রচার চালিয়ে যাওয়া হচ্ছে।’
‘আমার বিশ্বাস যে, আপনার এখান থেকে সঠিক তথ্যটি বেছে নিতে সক্ষম, আমার বিশ্বাস এই দেশের মানুষ কখনো ভুল করে না, এই দেশের মানুষ সবসময় সঠিক পথে এগিয়ে যায়। শান্তিপূর্ণভাবে আমরা সেই প্রক্রিয়ার মধ্যে যেতে চাই। যেখানে একটি নির্বাচনের মধ্য দিয়ে জনগণ তার আস্থা প্রকাশ করবে, তারা একটা পার্লামেন্ট বেছে নেবে এবং তাদের সরকার বেছে নেবে, যোগ করেন ফখরুল।
‘একাত্তর মুছে ফেলা যাবে না’ উল্লেখ করে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘এই কথাটা খুব জরুরি। কিছু সংখ্যক মানুষ চেষ্টা করে আমাদের ১৯৭১ সালের ইতিহাসকে ভুলিয়ে দিতে। এটাও সবসময় মাথায় রাখতে হবে যে, একাত্তরে যুদ্ধ হয়েছিল বলেই আমরা স্বাধীন হয়েছিলাম, স্বাধীন হয়েছিলাম বলেই আজকে আমরা নতুন রাষ্ট্রের নতুন চিন্তা করতে পারছি, স্বাধীন হয়েছিলাম বলেই কিন্তু আমরা আজকে বাংলাদেশের মানুষের অবস্থার পরিবর্তন করার যে সংগ্রাম, সে সংগ্রামে অংশ নিতে পারছি।’
আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন ন্যাশনাল পিপলস পার্টির চেয়ারম্যান ফরিদুজ্জামান ফরহাদ। সভা সঞ্চালনায় ছিলেন দলের মহাসচিব মোস্তাফিজুর রহমান মোস্তফা। সভায় আরো বক্তব্য রাখেন জাগপার খন্দকার লুফুর রহমান, গণদলের এটিএম গোলাম মাওলা চৌধুরী, সাম্যবাদী সৈয়দ নুরুল ইসলাম, বাংলাদেশ ন্যাপের এমএন শাওন সাদিকী প্রমূখ।


