পশ্চিমা বিশ্ব রাশিয়াকে সম্মান করলে আর যুদ্ধ নয়: পুতিন

পশ্চিমা বিশ্ব রাশিয়াকে সম্মান করলে আর যুদ্ধ নয়: পুতিন
ডাইরেক্ট লাইন অনুষ্ঠানে ভ্লাদিমির পুতিন। ছবি: রয়টার্স
Advertisement
Advertisement

পশ্চিমা বিশ্ব রাশিয়াকে সম্মান করলে এবং তার স্বার্থকে গুরুত্ব দিলে ইউক্রেনে আর কোনো যুদ্ধ হবে না বলে মন্তব্য করেছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। এসময় রাশিয়া ইউরোপীয় ইউক্রেনে হামলার পরিকল্পনা করছে- এমন অভিযোগ ‘নিরর্থক ও আজগুবি’ বলে উড়িয়ে দেন তিনি।

মস্কোতে শুক্রবার প্রায় সাড়ে চার ঘণ্টাব্যাপী টেলিভিশন অনুষ্ঠান ‘ডাইরেক্ট লাইন’-এ পুতিন এসব কথা বলেন। বিবিসির সাংবাদিক স্টিভ রোজেনবার্গ এ সময় তাকে প্রশ্ন করেন, ভবিষ্যতে আবারও কি কোনো ‘বিশেষ সামরিক অভিযান’ দেখা যেতে পারে? এ শব্দটি পুতিন মূলত ইউক্রেনে রাশিয়ার ‘পূর্ণমাত্রার আগ্রাসন’ বোঝাতে ব্যবহার করেন।

জবাবে রুশ প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘রাশিয়ার প্রতি সম্মান দেখানো হলে এবং তার স্বার্থ মানা হলে আর কোনো সামরিক অভিযান হবে না। পশ্চিমা দেশগুলো যদি রাশিয়ার সঙ্গে প্রতারণা না করে, বিশেষ করে ইউরোপীয় সামরিক জোট ন্যাটোর পূর্বদিকে কার্যক্রম সম্প্রসারণের বিষয়ে, তাহলে ভবিষ্যতে রাশিয়ার পক্ষ থেকে আর কোনো আগ্রাসন হবে না।’

পুতিনের দীর্ঘদিনের অভিযোগ, সোভিয়েত ইউনিয়ন ভাঙনের সময় পশ্চিমা শক্তি ন্যাটো সম্প্রসারণ না করার প্রতিশ্রুতি লঙ্ঘন করে পূর্বদিকে সম্প্রসারিত হওয়ার পরিকল্পনা করছে।

‘ডাইরেক্ট লাইন’ অনুষ্ঠানে সাধারণ মানুষ ও বিভিন্ন রুশ সংবাদমাধ্যমের প্রশ্নেরও উত্তর দেন পুতিন। রুশ রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের দাবি, এই অনুষ্ঠানের জন্য তিন মিলিয়নের বেশি প্রশ্ন জমা পড়েছিল। এ সময় পুতিনের পেছনে টানানো রাশিয়ার মানচিত্রে ইউক্রেন যুদ্ধে দখলকৃত অঞ্চলও অন্তর্ভুক্ত করা হয়।

রুশ প্রেসিডেন্ট অনুষ্ঠানে দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়েও কথা বলেন। রাশিয়ায় পণ্যের দাম বাড়ছে, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি কমছে এবং নতুন বছর থেকে ভ্যাটের হার ২০ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ২২ শতাংশ করা হচ্ছে। এরই প্রতিবাদ জানিয়ে এক নাগরিক তার প্রশ্নে বলেন, ‘সব কিছুর দাম যেভাবে পাগলের মতো বাড়ছে, তা বন্ধ করুন।’

আরও পড়ুন

ডাইরেক্ট লাইন অনুষ্ঠানে ভ্লাদিমির পুতিন। ছবি: রয়টার্স

পররাষ্ট্রনীতি, দেশপ্রেম, স্থানীয় ব্যবসা, মাছের দাম এবং যুদ্ধাহত সেনাদের দেখভালের বিষয়ে প্রশ্ন এলেও ইউক্রেন যুদ্ধই ছিল আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু। পুতিন দাবি করেন, তিনি ইউক্রেন যুদ্ধ শান্তিপূর্ণভাবে শেষ করতে প্রস্তুত, তবে তার পুরো বক্তব্যে যুদ্ধ বন্ধের বিষয়ে তেমন কোনো সমঝোতার ইঙ্গিত পাওয়া যায়নি।

তিনি আগের মতোই দাবি করেন, ইউক্রেনকে রাশিয়ার চারটি আংশিক দখলকৃত অঞ্চল থেকে সেনা প্রত্যাহার করতে হবে এবং ন্যাটোতে যোগ দেওয়ার পরিকল্পনা বাতিল করতে হবে। অন্যথায় কোনো সমঝোতা হবে না।

পুতিন আরও দাবি করেন, যুদ্ধক্ষেত্রে রুশ সেনারা এগিয়ে যাচ্ছে। ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যস্থতার চেষ্টাকেও স্বাগত জানান তিনি। পুতিন বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট যে শান্তি উদ্যোগ নিয়েছেন, তার অংশ হিসেবে ইউক্রেনে নতুন নির্বাচন হওয়া উচিত। ভোট চলাকালে রাশিয়া ইউক্রেনে বোমাবর্ষণ বন্ধ রাখতে প্রস্তুত।’

যুক্তরাষ্ট্রের এনবিসি নিউজের সাংবাদিক কিয়ার সিমন্স জানতে চান, ট্রাম্পের শান্তি প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করলে যুদ্ধের আরও প্রাণহানির দায় পুতিন নেবেন কি?

জবাবে তিনি বলেন, ‘শান্তি প্রতিষ্ঠায় রাশিয়া নয়, বাধা দিচ্ছে পশ্চিমা দেশগুলোর জোট এবং কিয়েভের নেতৃত্ব। এখন সিদ্ধান্ত নেওয়ার দায় আমাদের পশ্চিমা প্রতিপক্ষদের হাতে। বিশেষ করে কিয়েভের শাসকগোষ্ঠী এবং তাদের ইউরোপীয় সমর্থকদের হাতে।’

এদিকে অনুষ্ঠান শেষ হওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ইউক্রেনের দক্ষিণাঞ্চলীয় ওডেসায় ফের রুশ ক্ষেপণাস্ত্র হামলার খবর পাওয়া যায়। ইউক্রেনীয় কর্মকর্তারা জানান, ওই হামলায় সাতজন নিহত এবং অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন।

 

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর