পরিবেশ দূষণকারী প্রতিষ্ঠানের নাম গণমাধ্যমে প্রকাশ না করতে পরিবেশ অধিদপ্তরের দেওয়া সিদ্ধান্তকে অবৈধ ঘোষণা করেছে হাইকোর্ট। যেকোনো পরিবেশ দূষণকারীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার পর জনগণের জানার জন্য গণমাধ্যমে প্রকাশের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
একটি রিট আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে জারি করা রুল যথাযথ ঘোষণা করে বিচারপতি ফরিদ আহমেদ এবং বিচারপতি সৈয়দ মোহাম্মদ তাজরুল হোসেনের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ বুধবার এ রায় দেয়।
২০২২ সালে পরিবেশ অধিদপ্তর সিদ্ধান্ত নেয় যে, যেসব প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে পরিবেশ অধিদপ্তর ব্যবস্থা নেবে, তাদের নাম গণমাধ্যমে প্রকাশ করা হবে না। সংবাদপত্রে এ মর্মে রিপোর্ট প্রকাশিত হলে জনস্বার্থে ‘হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশ’ রিট করে ওই সিদ্ধান্তের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে। রিটে পরিবেশ সচিব, তথ্য সচিব, পরিবেশ অধিদপ্তরের ডিজিসহ সংশ্লিষ্ট পাঁচজনকে বিবাদী করা হয়।
শুনানি শেষে ২০২২ সালের ১৩ জুন হাইকোর্ট রুল জারি করে। রুলে পরিবেশ অধিদপ্তরের ওই সিদ্ধান্ত কেন বেআইনি ঘোষণা করা হবে না এবং দূষণকারী প্রতিষ্ঠানের নাম প্রকাশের কেন নির্দেশ দেওয়া হবে না, তা জানতে চাওয়া হয়।
ওই রুলের শুনানি শেষে বুধবার এ রায় দেয় আদালত এবং দূষণকারীদের নাম না প্রকাশ করাকে বেআইনি ও বাতিল ঘোষণা করে। একই সঙ্গে পরিবেশ দূষণকারী প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে পরিবেশ অধিদপ্তর ব্যবস্থা নিলে বিভিন্ন মিডিয়ায় তা প্রকাশের নির্দেশ দেয় আদালত।
আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী মনজিল মোরসেদ। তিনি শুনানিতে বলেন, পরিবেশ দূষণকারীদের নাম প্রকাশ না করার করার সিদ্ধান্তটি সংশ্লিষ্ট দায়ী প্রতিষ্ঠানের স্বার্থে নেওয়া হয়েছে। পরিবেশ অধিদপ্তরের দায়িত্ব দূষণ নিয়ন্ত্রণ করার পদক্ষেপ নেওয়া এবং তা প্রকাশ করা। কিন্তু তা না করে তারা একটি সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে যা আইন বিরোধী।
পরিবেশ অধিদপ্তরের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী মুনতাসির উদ্দিন।


