টানা এক সপ্তাহ ধরে দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হচ্ছে দেশের সর্ব উত্তরের জেলা পঞ্চগড়ে ৷ উত্তরের হিমেল হাওয়া ও ঘন কুয়াশার ফলে তীব্র শীত অনুভূত হচ্ছে। কনকনে ঠান্ডায় স্বাভাবিক জনজীবন ব্যাহত হচ্ছে। সবচেয়ে বেশী দুর্ভোগে পড়েছেন নিম্ন আয়ের ও খেটে খাওয়া মানুষরা।
আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, এ জেলার ওপর দিয়ে মাঝারি শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। তা আরও কয়েক দিন অব্যাহত থাকতে পারে।
বৃহস্পতিবার সকাল ৯টায় জেলার তেঁতুলিয়া আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৭ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
তেঁতুলিয়া আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জিতেন্দ্রনাথ রায় বলেন, ‘গত কয়েক দিন ধরে তেঁতুলিয়ায় তাপমাত্রা ওঠানামা করছে। টানা এক সপ্তাহ ধরে পঞ্চগড়ে দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হচ্ছে। মূলত, উত্তরের হিমেল বাতাস ও ঘন কুয়াশার কারণে শীতের তীব্রতা বেড়েছে। আগামী কয়েক দিন এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকতে পারে।’
সরেজমিনে জেলার বিভিন্ন স্থানে ঘুরে দেখা গেছে, সকাল পর্যন্ত জেলার গ্রাম ও শহরের সড়ক-মহাসড়ক ঘন কুয়াশায় ঢেকে আছে। কুয়াশার কারণে দৃশ্যমানতা কমে যাওয়ায় মহাসড়কে যানবাহন চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। অনেক চালককে ধীরগতিতে গাড়ি চালাতে দেখা গেছে।
জেলার বিভিন্ন এলাকার দিনমজুর ও নিম্ন আয়ের মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। কনকনে ঠান্ডার কারণে অনেকেই ভোরে কাজে বের হতে পারছেন না। গ্রাম ও শহরের বিভিন্ন স্থানে অনেককেই ভোর থেকে খড়কুটো, শুকনো পাতা ও কাঠ জ্বালিয়ে শীত নিবারণ করতে দেখা গেছে।
কথা হয় জেলার তেঁতুলিয়া উপজেলার রনচন্ডি এলাকার দিনমজুর মালেক বাদশার সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘অতিরিক্ত ঠান্ডার কারণে তেমন কাজ করতে পারছি না। শীতে হাত পা অবশ হয়ে যায়। আমাদের আয় কমে গেছে।’
সদর উপজেলার অমরখানা এলাকার বাবুল ইসলাম বলেন, ‘কয়েক দিন ধরে খুব শীত। এই কারণে কাজকর্ম তেমন করতে পারছি না।’
এদিকে আবহাওয়া অধিদপ্তর এক বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, দিনাজপুর, পঞ্চগড়, কুড়িগ্রাম ও চুয়াডাঙ্গা জেলার ওপর দিয়ে মৃদৃ শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে এবং তা অব্যাহত ও বিস্তার লাভ করতে পারে। সকাল পর্যন্ত দেশের কিছু কিছু এলাকায় হালকা থেকে মাঝারি ধরনের কুয়াশা পড়তে পারে। সারা দেশে রাত এবং দিনের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে।


