পঞ্চগড়ে দলীয় নেতাকর্মীদের ওপর হামলা, মারধর, হুমকি এবং বাড়িঘরে ভাঙচুরের অভিযোগ করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম।
শুক্রবার বিকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া একাধিক পোস্টে তিনি এসব অভিযোগ তোলেন।
একটি পোস্টে সারজিস আলম লিখেছেন, ‘এখন পর্যন্ত পঞ্চগড়-১ আসনে প্রায় ৩০টির বেশি স্থানে বিএনপির নেতাকর্মীরা আমাদের নেতাকর্মীদের ওপর, তাদের বাড়িঘর ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা করেছে, হুমকি দিয়েছে। অনেকে ঘরে থাকতে পারছে না। বিএনপি কি এখনো পুরনো কায়দায় প্রতিহিংসার রাজনীতি করতে চায় কিনা, সেটা বিএনপিকে স্পষ্ট করতে হবে।’

পোস্টে এনসিপি রাজনীতি করতে এসেছে এবং পুরনো নোংরা রাজনৈতিক কালচার পরিবর্তন করে নতুন রাজনীতি গড়তে চায় জানান তিনি। তিনি বলেন, ‘ক্ষমতা চিরস্থায়ী নয়। যারা অতি উৎসাহী হয়ে এসব করছে, তাদের সংশোধন হওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি। অতীত থেকে শিক্ষা নিন। মনে রাখবেন, এক মাঘে শীত যায় না।’
অন্য এক পোস্টে সারজিস আলম দাবি করেন, ৪৮ শতাংশ মানুষকে প্রতিপক্ষ বানিয়ে পঞ্চগড়-১ আসনে বিএনপি যদি রাজনীতি করতে চায়, তাহলে এর মূল্য তাদের দিতে হবে। ‘হয় সন্ত্রাসী কার্যক্রম বন্ধ করুন, নয়তো আমরা রাজনৈতিকভাবে মোকাবিলা করব’—যোগ করেন তিনি।
একই দিন সন্ধ্যায় দেওয়া আরেক পোস্টে সারজিস আলম অভিযোগ করেন, পঞ্চগড়ের মীরগড়ে বিএনপির নেতাকর্মীরা দোকান ভাঙচুর করছে, বাড়িতে হামলা করছে এবং রগ কেটে নেওয়ার হুমকি দিচ্ছে।
ঘটনার সত্যতা জানার জন্য সারজিসের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, অন্তত ১০০ স্থানে এনসিপি নেতাকর্মীদের বাড়িতে ইটপাটকেল নিক্ষেপ, হামলা ও ভাঙচুর করা হয়েছে। অনেকেই মামলার ভয়ে বাড়িছাড়া হয়েছেন। এমনকি শাপলা প্রতীকে ভোট চাইতে যাওয়া শিশুদেরও মারধর করা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

সদর উপজেলার ধাক্কামারা ইউনিয়নের ফকিরের হাট এলাকার এক এনসিপি কর্মী অভিযোগ করে বলেন, ‘গতকাল আমি শাপলা প্রতীকের ভোট চাইছিলাম। পরে ছাত্রদলের কয়েকজন এসে ভোট চাইতে নিষেধ করে চলে যেতে বলে। আজ আমাকে হুমকি দিচ্ছে—পেলে রগ কেটে দেবে, গুম করে দেবে।’
আটোয়ারী উপজেলার বলরামপুর ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য ও এনসিপির ইউনিয়ন আহ্বায়ক আমিরুল ইসলাম জানান, ইউনিয়ন বিএনপি নেতা মোস্তাফিজুরের ভাতিজা আবু তৌহিদ তাকে ও তার ছেলেসহ তিনজনকে হুমকি দিয়ে তাকে দেখে নেওয়ার কথা বলেছে।
একই এলাকার নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আরেক এনসিপি কর্মী জানান, নির্বাচনের রাতে রাণীগঞ্জ বাজারে তার পিঠার দোকান ভাঙচুর করা হয়েছে। তিনি বলেন, ‘রাত ১১টা-১২টার দিকে তারা আনন্দ মিছিল করে। সে সময় আমার দোকান ভেঙে ফেলে। কিছুই অবশিষ্ট রাখেনি।’
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মির্জা নাজমুল ইসলাম কাজল বলেন, ‘আটোয়ারীতে আমাদের লোকজনকে তারা মারধর করে আহত করেছে। এ ধরনের অভিযোগ তারা আগেও করেছে, নতুন কিছু নয়।’
পঞ্চগড়ের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) শইমী ইমতিয়াজ জানান, এ বিষয়ে লিখিত কোনো অভিযোগ পাননি তারা। তবে অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে আশ্বাস দেন তিনি।


