গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুরসহ নেতাকর্মীদের উপর হামলার দায় নিয়ে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার পদত্যাগ দাবি করেছেন দলটির সাধারণ সম্পাদক মো. রাশেদ খাঁন।
তিনি বলেন, ‘স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার কোনোভাবেই দায় এড়াতে পারেন না। এখনো পর্যন্ত তিনি এই ঘটনায় দুঃখ কিংবা সহমর্মিতা প্রকাশ করেননি। কাউকে গ্রেপ্তার করার নির্দেশনা দেননি। বরং হামলাকারীদের রক্ষা করে যাচ্ছেন। কিন্তু কোনভাবে সেটি মেনে নেওয়া হবে না ‘
নুরের ওপর হামলার প্রতিবাদে ও জড়িতদের বিচারের দাবিতে বুধবার জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে বিক্ষোভ সমাবেশ করে গণঅধিকার পরিষদ। সমাবেশে এসব কথা বলেন তিনি।
রাশেদ খাঁন বলেন, ‘গণঅভ্যুত্থান অন্যতম নায়ক নুরুল হক নুরের উপর হামলার বিচার না হলে বাজে দৃষ্টান্ত তৈরি হবে। আমরা তো পুরো সেনাবাহিনী কিংবা পুলিশ বাহিনীকে দোষারোপ করছি না। শুধুমাত্র বাহিনীর যারা হামলার সঙ্গে জড়িত তাদের বিচার দাবি করছি। এতদিনেও একজন গ্রেপ্তার না হওয়া রহস্যজনক। তাহলে সরকার হামলার বিষয়ে ওয়াকিবহাল ছিল?’
স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী এই হামলার দায় এড়াতে পারেন না মন্তব্য করে তিনি বলেন, ‘নুরুল হক নুরের উপর হামলার ঘটনার দায় নিয়ে তাকে পদত্যাগ করতে হবে। অনেকে বলছে, এই ঘটনা নির্বাচন বানচালের ষড়যন্ত্র ছিল। হতে পারে নুরুল হক নুরকে রক্তাক্ত করে অস্থিতিশীল পরিবেশ তৈরি করে আরেকটি ১/১১ সৃষ্টি করা। এজন্যই বলছি, ঘটনার ভালোভাবে তদন্ত হোক।’
এ ঘটনা তদন্তে গঠিত কমিশনের ওপর আস্থা রাখছেন জানিয়ে রাশেদ বলেন, ‘কিন্তু আমাদের আহ্বান থাকবে, ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত করার। দোষীরা যাতে কোনোভাবেই রক্ষা না পায়, সেটি আমাদের দাবি।’
প্রধান উপদেষ্টার নির্দেশনা থাকার পরেও নুরকে বিদেশে চিকিৎসার ব্যাপারে গড়িমসি চলছে অভিযোগ করেন রাশেদ খাঁন।
গণঅধিকার পরিষদের মুখপাত্র ফারুক হাসান বলেন, ‘আজকে আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসীরা রাস্তায় মিছিল করছে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা কিছু করতে পারছেন না। নিষিদ্ধ সংগঠনের নেতাকর্মীদের এই মিছিলের পুরো দায় এই স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার। এরা জাতীয় পার্টির বিষয়েও কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছে না।’
‘এখন থেকে জাতীয় পার্টি ও আওয়ামী লীগের দোসরদের যেখানেই পাওয়া যাবে সেখানেই গণপিটুনি দিতে হবে। নুরুল হক নুরের উপর হামলার ঘটনায় সরকার বিচার না করলে যা যা করা দরকার আমরা তাই করব।’
সমাবেশে গণঅধিকার পরিষদ মহানগর দক্ষিণের সভাপতি নাজিম উদ্দীন সভাপতিত্ব করেন। এতে আরও উপস্থিত ছিলেন মহানগর উত্তরের সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রহিম, উচ্চতর পরিষদের সদস্য হাসান আল মামুন, আবু হানিফ, শহিদুল ইসলাম ফাহিম, মাহফুজুর রহমান, সাংগঠনিক তোফাজ্জল হোসেন, মহানগর উত্তরের সভাপতি মিজানুর রহমানসহ অন্যরা।


