উত্তরাঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের চিকিৎসা সংকট দূর করতে নীলফামারীতে গড়ে উঠছে এক হাজার শয্যার আধুনিক বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী জেনারেল হাসপাতাল।
শুক্রবার সকালে প্রস্তাবিত এ প্রকল্পের স্থান পরিদর্শন করেছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. কামরুজ্জামান চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল।
প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরের নির্দেশনায় গঠিত প্রতিনিধিদলটি নীলফামারী সদরের দারোয়ানী টেক্সটাইল মিলস এলাকায় গিয়ে প্রকল্পের সম্ভাব্যতা, অবকাঠামোগত উপযোগিতা এবং দ্রুত বাস্তবায়নের কৌশল নিয়ে আলোচনা করে। এ সময় সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা হাসপাতালের নকশা, সেবার ধরন এবং ভবিষ্যৎ সম্প্রসারণ পরিকল্পনা তুলে ধরেন।
পরিদর্শন শেষে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় স্বাস্থ্য সচিব বলেন, ‘উত্তরাঞ্চলের ১৬ জেলার মানুষের জন্য স্থানটি ভৌগোলিকভাবে অত্যন্ত উপযোগী। দীর্ঘদিন ধরে উন্নত চিকিৎসাসেবার অভাবে ভোগা মানুষ এখানে আধুনিক চিকিৎসা পাবে–এটাই সরকারের লক্ষ্য।
তিনি জানান, প্রকল্প বাস্তবায়নে গণপূর্ত অধিদপ্তর, স্থাপত্য বিভাগসহ চারটি সংস্থা সমন্বিতভাবে কাজ করছে। প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ও কারিগরি প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করে শিগগির নির্মাণকাজ শুরু করা হবে।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, হাসপাতালটিতে থাকবে এক হাজার শয্যা। এর মধ্যে ৫০০ শয্যা সাধারণ রোগীদের জন্য এবং বাকি ৫০০ শয্যা অত্যাধুনিক বিশেষায়িত ইউনিট হিসেবে গড়ে তোলা হবে। হৃদরোগ, কিডনি রোগসহ জটিল ও দীর্ঘমেয়াদি রোগের চিকিৎসা এক জায়গায় নিশ্চিত করা হবে।
স্বাস্থ্য সচিব আরও বলেন, ‘হাসপাতালটি চালু হলে উত্তরবঙ্গের মানুষকে উন্নত চিকিৎসার জন্য আর রাজধানীতে যেতে হবে না। এখানেই তারা বিশ্বমানের চিকিৎসাসেবা পাবেন।’
এ ছাড়া, হাসপাতালের পাশেই নীলফামারী সরকারি মেডিকেল কলেজ স্থানান্তরের পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি। এতে একই চত্বরে চিকিৎসাসেবা ও চিকিৎসা শিক্ষার সমন্বয় ঘটবে এবং শিক্ষার্থীরা হাতে-কলমে আধুনিক প্রশিক্ষণের সুযোগ পাবেন।
সভায় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাসসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, দ্রুত বাস্তবায়ন হলে এই হাসপাতাল শুধু নীলফামারী নয়, উত্তরাঞ্চলের স্বাস্থ্যসেবায় বড় পরিবর্তন আনবে।


