আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নির্বাচন কমিশনকে (ইসি) শক্ত ভূমিকা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে বিএনপি। একই সঙ্গে ইসির নিজস্ব কর্মকর্তাদের রিটার্নিং কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তার দায়িত্ব দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছে দলটি। বুধবার নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে সংলাপে বিএনপির পক্ষ থেকে এ আহ্বান জানানো হয়।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে সংলাপ করছে ইসি। এর অংশ হিসেবে এদিন দুপুরে নির্বাচন ভবনে বিএনপি, নাগরিক ঐক্য, গণঅধিকার পরিষদ, বাসদ (মার্ক্সবাদী) ও রিপাবলিকান পার্টির সঙ্গে সংলাপ করে ইসি।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আবদুল মঈন খানের নেতৃত্বে তিন সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল ইসির সংলাপে অংশ নেয়। এ সময় ইসির নিজস্ব কর্মকর্তাদের রিটার্নিং ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তার দায়িত্ব দেওয়ার কথা বলেন আবদুল মঈন খান।
তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে চারটি বোতাম আছে। একটি হচ্ছে ডিসি, একটি হচ্ছে এসপি, একটি হচ্ছে ইউএনও, আরেকটি হচ্ছে ওসি। এ চারটি বোতাম টেপা হয় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে, এরপর ৩০০ আসনে নির্বাচনের ফলাফল বের হয়ে আসে। এ পদ্ধতি থেকে বের হয়ে আসতে হবে।
আবদুল মঈন খান বলেন, তারা ইসিকে সব সহায়তা করবেন। কিন্তু ইসিকে শক্ত থাকতে হবে। সরকারের কাছে ইসি নতজানু থাকলে নিরপেক্ষ নির্বাচন করা সম্ভব হবে না।
জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সাধারণত ৬৪ জেলার জেলা প্রশাসক (ডিসি) এবং ঢাকা ও চট্টগ্রামের বিভাগীয় কমিশনাররা রিটার্নিং কর্মকর্তার দায়িত্ব পালন করেন।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এবং ক্ষেত্রবিশেষে নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তারা সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তার দায়িত্ব পালন করেন। এর আগেও বিভিন্ন নির্বাচনের আগে ইসির নিজস্ব কর্মকর্তাদের এই দায়িত্ব দেওয়ার দাবি উঠেছিল।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির এই সদস্য বলেন, নির্বাচনে কয়েক লাখ নির্বাচন কর্মকর্তা প্রয়োজন। ইসির এত লোকবল নেই। কিন্তু ইসির যতটুকু জনবল আছে, তার সর্বোচ্চ ব্যবহার করতে হবে। ৩০০ আসনে সরকারের কাছ থেকে রিটার্নিং কর্মকর্তা ও সহাকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ধার করে আনা হয়। ইসির এটুকু জনবল আছে।
একবার সাহস করে এই সিদ্ধান্ত নেন যে রিটার্নিং অফিসার আপনাদের নির্বাচন কমিশন থেকে থাকবে। অ্যাসিস্ট্যান্ট রিটার্নিং অফিসার আপনাদের নির্বাচন কমিশনের ডেডিক্যাটেড লোকেরা হবেন। এই একটা সিদ্ধান্তের মাধ্যমে বাংলাদেশের রাজনীতিতে গুণগত পরিবর্তন আসবে, যোগ করেন তিনি।
এ সময় বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা মাহদী আমিন সংলাপে বলেন, ভোটের মাঠের মতো অনলাইন প্ল্যাটফর্মেও সবার জন্য সমান সুযোগ (লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড) গুরুত্বপূর্ণ। নানাভাবে অনেকের চরিত্র হনন, মিস ইনফরমেশন (মিথ্যা তথ্য), ডিস ইনফরমেশন (অপতথ্য), এআই ব্যবহার করে নানা অপপ্রচার চালানো হচ্ছে।
তিনি ইসির অধীনে কেন্দ্রীয়ভাবে এবং উপজেলা পর্যায়ে ফ্যাক্ট চেকিংয়ের ব্যবস্থা রাখা; প্রয়োজনে ফেসবুক, ইউটিউবের মতো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কর্তৃপক্ষগুলোর সঙ্গে কথা বলা; বিভিন্ন সংস্থার সহায়তা নেওয়ার পরামর্শ দেন।
বিএনপির প্রতিনিধিদলে অন্যদের মধ্যে ছিলেন দলের আইনবিষয়ক সম্পাদক কায়সার কামাল ও সাবেক সচিব মো. জকারিয়া।


