নির্বাচনের কাজে যুক্ত সরকারি কর্মকর্তারা গণভোটের প্রচারে অংশ নিতে পারলেও কোনো পক্ষভুক্ত হতে পারবেন না বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশনার আনোয়ারুল ইসলাম সরকার। অর্থাৎ তারা গণভোটের পক্ষে বা বিপক্ষে সরাসরি প্রচার চালাতে পারবেন না।
মঙ্গলবার নির্বাচন ভবনে নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এ কথা জানান তিনি।
আসন্ন গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জয়যুক্ত করতে এরই মধ্যে সরকারের পক্ষ প্রচার শুরু হয়েছে। খোদ প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসও জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে ‘হ্যাঁ’ ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
এমন বাস্তবতায় গণভোট নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অবস্থান কী, তা জানতে চেয়েছিলেন সাংবাদিকরা।
জবাবে আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা গণভোটের জন্য ভোটারদের উদ্বুদ্ধ করছি। তবে নির্বাচনী কাজের দায়িত্বে যারা থাকবেন, তারা আইনগতভাবে কোনো পক্ষে কাজ করবেন না। নির্বাচন দায়িত্বে থাকা রিটার্নিং অফিসার, সহকারী রিটার্নিং অফিসার এবং অন্যান্য নির্বাচনী কাজে দায়িত্বরতরা গণভোটের প্রচার করবে, কিন্তু পক্ষে বা বিপক্ষে যাবে না।’
নির্বাচনের পরিবেশ নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, নির্বাচন কমিশন কোনো শঙ্কা দেখছে না।
ইসি আনোয়ারুল বলেন, ‘প্রতিনিয়তই আমাদের রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ আমাদের কাছে আসছেন। উনাদের পরামর্শ-পর্যবেক্ষণ আমাদেরকে দিচ্ছেন। সেই অনুযায়ী আমরা তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিচ্ছি। এছাড়াও মিডিয়া এবং সামাজিক মাধ্যমের যে বিষয়গুলো আসছে আমরা তাৎক্ষণিকভাবে রিটার্নিং কর্মকর্তার নজরে আনছি, আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীতে যারা নিয়োজিত রয়েছেন তাদেরকেও তড়িৎ আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য বলা হচ্ছে।’
প্রতিদিন অন্তত ৫০-৬০টি ঘটনা রেকর্ড করা হচ্ছে, কোথাও জরিমানা ও কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি।
এনসিপি ও জামায়াতের কর্মীদের ওপর হামলা অভিযোগের বিষয়ে কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে কিনা জানতে চাইলে এই নির্বাচন কমিশনার বলেন, ‘প্রতিটি অভিযোগই আমরা মনোযোগ দিয়ে শুনেছি এবং এরই মধ্যে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।’
লেভেল প্লেইং ফিল্ড না থাকার বিষয়ে দলগুলোর অভিযোগের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড কোন জায়গায় নাই, সেই সুনির্দিষ্ট অভিযোগগুলো দলগুলো দিয়েছেন, প্রত্যেকটা ক্ষেত্রেই আমরা কনসার্ন। অভিযোগগুলো রিটার্র্নি অফিসার এবং ইলেক্টোরাল ইনকয়ারি কমিটির কাছে আমরা পাঠিয়েছি এবং সেই ক্ষেত্রে তারা আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেবেন।’
শতভাগ আস্থার সঙ্গে জনগণ এই নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে বলে মনে করেন ইসি আনোয়ারুল। তিনি বলেন, ‘রাজনৈতিক দলগুলো অংশ নিচ্ছে এবং একটি উৎসবমুখর পরিবেশে নির্বাচনের প্রচার চলছে; এগুলো তো আস্থারই বহিঃপ্রকাশ।’


