নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্তে অস্ত্র ও গুলিসহ মিয়ানমারের নাগরিক আটক

নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্তে অস্ত্র ও গুলিসহ মিয়ানমারের নাগরিক আটক
একটি এসএলআর রাইফেল ও বিপুল পরিমাণ গুলিসহ আটক মিয়ানমারের নাগরিক খেং মং চো | ছবি: বিজিবির সৌজন্যে
Advertisement
Advertisement

বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলায় সীমান্ত এলাকা থেকে একটি এসএলআর রাইফেল ও বিপুল পরিমাণ গুলিসহ মিয়ানমারের এক নাগরিককে আটক করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ।

রোববার ৩৪ বিজিবির একটি টহল দল উপজেলার বাইশফাঁড়ি সীমান্ত এলাকায় অভিযান চালায়। এ সময় সন্দেহজনক গতিবিধি লক্ষ্য করে এক যুবককে আটক করা হয়। পরে তার দেহ তল্লাশি চালিয়ে একটি এসএলআর রাইফেল, ১৮০ রাউন্ড গুলি (৩টি ম্যাগাজিনসহ) এবং একটি জলপাই রঙের বান্ডুলি উদ্ধার করা হয়।

আটকের পর তাকে কয়েক ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। প্রাথমিক তদন্ত শেষে আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে সোমবার দুপুরে তাকে বান্দরবান আদালতে পাঠানো হয়েছে বলে নাইক্ষ্যংছড়ি থানা জানিয়েছে।

নাইক্ষ্যংছড়ি থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি তদন্ত) মোহাম্মদ আকরাম উল্লাহ জানান, আটক ব্যক্তির নাম খেং মং চো (২০)। তিনি মিয়ানমারের রাখাইন প্রদেশের মন্ডু জেলার মদক ক্রাহ্লাঅং পাড়ার বাসিন্দা এবং উচিং মং-এর ছেলে। তার কাছ থেকে উদ্ধারকৃত অস্ত্র ও গোলাবারুদ কোথায় থেকে আনা হয়েছে। কেন তিনি সীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশে অনুপ্রবেশ করল তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তার বিরুদ্ধে অস্ত্র আইন ও অনুপ্রবেশের দায়ে মামলা করে আদালত প্রেরণ করা হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে চলমান সংঘাত, সশস্ত্র গোষ্ঠীর তৎপরতা এবং আইনশৃঙ্খলার অবনতির প্রভাব বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তেও পড়ছে। বিশেষ করে নাইক্ষ্যংছড়ি, তুমব্রু, ঘুমধুম ও বাইশফাঁড়ি সীমান্ত দিয়ে অবৈধ অনুপ্রবেশ, অস্ত্র ও মাদক পাচারের ঝুঁকি দিন দিন বাড়ছে।

আরও পড়ুন

গত কয়েক মাসে নাইক্ষ্যংছড়ি ও পার্শ্ববর্তী সীমান্ত এলাকায় পরিত্যক্ত অস্ত্র, গুলি উদ্ধার, গোলাগুলির শব্দ শোনা এবং মিয়ানমার থেকে পালিয়ে আসা নাগরিকদের অনুপ্রবেশের একাধিক ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনায় সীমান্তবাসীর মধ্যে উদ্বেগ ও আতঙ্ক বিরাজ করছে।

কক্সবাজার বিজিবির ৩৪ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক খায়রুল আলম বলেন, ‘বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তে যেকোনো ধরনের অস্ত্র পাচার, অবৈধ অনুপ্রবেশ ও নিরাপত্তা ঝুঁকি মোকাবিলায় বিজিবি সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। সীমান্ত এলাকায় টহল ও নজরদারি আরও জোরদার করা হয়েছে। দিন-রাত যৌথ টহল, গোয়েন্দা নজরদারি এবং সন্দেহভাজন চলাচলের ওপর কড়া নজর রাখা হচ্ছে, যাতে কোনোভাবেই অপরাধীরা সীমান্ত অতিক্রম করতে না পারে।’

তিনি আরও বলেন, ‘সীমান্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় মিয়ানমার সীমান্তের প্রতিটি বিওপির সদস্যরা তৎপরতা বাড়ানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।’

সম্প্রতি মিয়ানমার সীমান্তে অস্ত্র, গোলাবারুদ ও অবৈধ অনুপ্রবেশের ঘটনা বাড়তে থাকায় সীমান্তে নজরদারি বাড়িয়েছে সংশ্লিষ্টরা।

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর
Ad