নরসিংদীর দুটি এইচএসসি পরীক্ষাকেন্দ্রে ভুল প্রশ্নপত্রে এমসিকিউ পরীক্ষা নেওয়ার ঘটনায় শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। এক কেন্দ্রে পরীক্ষা চলাকালেই ভুল ধরা পড়লেও অন্য কেন্দ্রের পরীক্ষার্থীরা বাড়িতে গিয়ে উত্তর মেলানোর সময় বিষয়টি জানতে পারেন। এ ঘটনায় দায়িত্বপ্রাপ্ত চার শিক্ষককে প্রত্যাহার ও অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার বাংলা প্রথমপত্র পরীক্ষায় সদর উপজেলার নরসিংদী পাইলট উচ্চবিদ্যালয় কেন্দ্র এবং মনোহরদী উপজেলার খিদিরপুর ডিগ্রি কলেজ কেন্দ্রে এ ঘটনা ঘটে।
নরসিংদী পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রের ২০১ নম্বর কক্ষে পরীক্ষা দেওয়া শিক্ষার্থীরা জানান, পরীক্ষা শুরুর ১০ থেকে ১৫ মিনিট পর তারা বুঝতে পারেন যে তাদের ২০২৫ সালের প্রশ্নপত্র দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি দায়িত্বপ্রাপ্ত শিক্ষকদের জানালে পুরোনো প্রশ্নপত্র পরিবর্তন করে নতুন প্রশ্নপত্র দেওয়া হলেও অতিরিক্ত সময় দেওয়া হয়নি।
কেন্দ্র সচিব ও নরসিংদী সরকারি মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক নাছিমা আক্তার ভুল প্রশ্নপত্র বিতরণের বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, এটি অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা। এ ঘটনায় দায়িত্বে থাকা সমাজবিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক অলক কুমার পাল এবং হিসাববিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক সুব্রত কুমার সাহাকে সাময়িকভাবে দায়িত্ব থেকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। পাশাপাশি বিস্তারিত তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
নরসিংদী সরকারি মহিলা কলেজ কেন্দ্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সারোয়ার আলম জানান, জেলা প্রশাসকের নির্দেশে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) বিষয়টি তদন্ত করছেন।
এদিকে মনোহরদী উপজেলার খিদিরপুর ডিগ্রি কলেজ কেন্দ্রে দুটি কক্ষের প্রায় শতাধিক পরীক্ষার্থীকে বাংলা প্রথমপত্রের নির্ধারিত এমসিকিউ প্রশ্নের পরিবর্তে ভিন্ন সেটের প্রশ্নপত্র দেওয়া হয়।
পরীক্ষার্থীরা জানান, পরীক্ষা শেষে বাড়িতে গিয়ে উত্তর মেলানোর সময় তারা ভুল প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা দেওয়ার বিষয়টি জানতে পারেন। এতে ফলাফল নিয়ে তারা উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
মনোহরদী সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক আব্দুল মান্নান বলেন, দায়িত্বে থাকা শিক্ষকদের অবহেলার কারণেই এমন ঘটনা ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। বিষয়টি শিক্ষা বোর্ডকে জানানো হয়েছে।
মনোহরদী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এম এ মুহাইমিন আল জিহান জানান, ঘটনার পর দায়িত্বে থাকা চারজন শিক্ষককে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি কেন্দ্র সচিব ও খিদিরপুর ডিগ্রি কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের বিরুদ্ধেও বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।
প্রশাসন জানিয়েছে, কোনো পরীক্ষার্থী যেন ক্ষতিগ্রস্ত না হন, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট শিক্ষা বোর্ডের সঙ্গে সমন্বয় করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।


