ব্যস্ততম শহরের কোলাহল থেকে মাত্র কয়েক গজ দূরে, দিনাজপুর সদরের গাবুড়া ব্রিজের নিচে নদীপাড়ে গড়ে উঠেছে অস্থায়ী বেদে পল্লী।
চিরাচরিত সভ্য জগৎ থেকে আলাদা, এ এক ভিন্ন পৃথিবী। প্রতি বছরই জীবিকার সন্ধানে এখানে ছুটে আসা এই যাযাবর জনগোষ্ঠীর কাছে কয়েক সপ্তাহের জন্য তৈরি তাঁবু আর প্লাস্টিকের ছোট ঘরগুলোই তাদের নিরাপদ আশ্রয়স্থল।
নদীর স্রোতের মতোই চলমান এদের জীবন। একদিকে শহরের পাকা দালান আর চলমান গাড়ি, অন্যদিকে নদীর কিনারে সারি সারি তাঁবু। নদীর এই পাড়টিই এখন ৫০ থেকে ৬০ জনের এই বেদে জনগোষ্ঠীর ঠিকানা। বিষধর সাপ নিয়ে রোমাঞ্চকর খেলা দেখানোই এদের প্রধান পেশা। যা চলে আসছে প্রজন্ম থেকে প্রজন্ম ধরে।
এছাড়াও বেদেরা হাতে তৈরি গয়না, ঐতিহ্যবাহী ও ভেষজ ওষুধ এবং নানা ধরনের সৌন্দর্য সামগ্রী ফেরি করে বেড়ায়। বেদে পরিবারগুলো মূলত এই সামান্য আয়ের উপরই নির্ভরশীল। তাদের শিশুরা প্রকৃতির খুব কাছাকাছি থেকে বেড়ে ওঠে। প্রকৃতির কোলে বেড়ে ওঠা এসব শিশুর স্কুল হলো নদীর পাড়, আর খেলার সঙ্গী সাপ ও অন্যান্য সরীসৃপ।
কয়েক সপ্তাহ এক বসতিতে থেকে, নতুন গন্তব্যের ডাকে আবার তারা বসতি গুটিয়ে বেড়িয়ে পড়ে অজানা ঠিকানায়। এ যেন এক অসমাপ্ত উপন্যাস। অবিরাম পাতা উলটে চলা। যে উপন্যাসের পাতায় পাতায় কেবল নতুন ঠাঁই খোঁজার সংগ্রাম।
এক বেদে বলেন, ‘এই বছর এইখানে, পরের বছর হয়তো আরও দূরে কোথাও। এটাই আমাদের জীবন, নদীর স্রোতের মতোই শুধু চলতে থাকা। আমরাও চাই, আমাদের ছেলে-মেয়েরা লেখাপড়া শিখুক, কিন্তু পেটের তাগিদে আমাদের এই কাজ ছাড়ার উপায় নাই।’


