পুরো এক মাস সংযম সাধনের পর আসে ঈদ-উল-ফিতর। ধর্মীয় গুরুত্বের পাশাপাশি তাই এই ঈদ নিয়ে মানুষের প্রতীক্ষা আর পরিকল্পনাও থাকে বেশি।
বাংলাদেশে ঈদ-উল-ফিতর পরিচিত রোজার ঈদ নামে। এই ঈদে নতুন পোশাক কেনা হয়, নানা ধরনের খাবার তৈরি করে অতিথি আপ্যায়ন করা হয়, আত্মীয়-স্বজন থেকে শুরু করে পাড়া প্রতিবেশির বাসায় বেড়াতে যাওয়া হয়।
দেশ-স্থান-কালভেদে রোজার ঈদের খাবারে দেখা যায় বৈচিত্র্য। তবে প্রায় সব সংস্কৃতিতেই এই ঈদে খাওয়া হয় বিভিন্ন ধরনের মিষ্টান্ন। চলুন দেখে নিই, কোন দেশে রোজার ঈদে কোন ধরনের খাবার খাওয়া হয়।
মধ্যপ্রাচ্য:
মুগালগাল নামে এক ধরনের খাবার খাওয়া হয় সৌদি আরবে। এটি মূলত ভেড়ার মাংসের ছোট টুকরার সঙ্গে কাঁচামরিচ, পেঁয়াজ এবং তাজা টমেটো দিয়ে ভাজা একটি পদ।

বিনত আল সাহান হলো ইয়েমেনের জনপ্রিয় ঈদের খাবার। কাগজের মতো পাতলা এবং মুচমুচে মিষ্টি রুটির স্তর দিয়ে তৈরি এক ধরনের খাবার এটি। ওপরে ছিটিয়ে দেওয়া হয় কালোজিরা, খাওয়ার সময় ছড়িয়ে নেওয়া হয় মধু।
খেজুরের পিউরি, আখরোট বা পেস্তা বাদাম দিয়ে তৈরি মামুল হলো এক ধরনের শর্টব্রেড কুকিজ। এটি সিরিয়া ও লেবাননসহ মধ্যপ্রাচ্যের অনেক দেশেই জনপ্রিয়।

এশিয়া:
তুরস্কে পরিবেশিত হয় লোকুম। এটি এক ধরনের মার্শম্যালো ধরনের মিষ্টান্ন। ইংরেজিতে এটি তার্কিশ ডিলাইট নামে পরিচিত।

চীনের মুসলমানরা ঐতিহ্যগতভাবে ঈদে পরিবেশন করেন ইউ শিয়াং। এটি ডুবোতলে ভাজা গোলাকার মচমচে লুচি বা পিঠা জাতীয় একটি খাবার।
রেনদাং নামের খাবারটি খাওয়া হয় মূলত ইন্দোনেশিয়ায়। গরু, মুরগি বা ভেড়ার মাংসের একটি বিশেষ পদ এই রেনদাং। নারকেলের দুধে দীর্ঘ সময় ধরে মাংস জ্বাল দেওয়া হয়, যতক্ষণ না এটি ঘন হয়ে ক্যারামেলের মতো রঙ ধারণ করে।

শির খুরমা হলো আমাদের দুধ সেমাইয়ের মতো খাবার। দক্ষিণ এশিয়ার পাকিস্তান ও ভারতে এই শির খুরমা খাওয়ার প্রচলন রয়েছে। এতে সেমাইয়ের সঙ্গে প্রচুর পরিমাণে বাদাম-কিসমিস ব্যবহার করা হয়।
আফ্রিকা:
মরক্কোতে ঈদে পরিবেশন করা হয় আসিদা। এটি সুজি দিয়ে তৈরি এক ধরনের হালুয়া, যাতে মেশানো হয় মধু। মূলত সকালের নাশতায় আসিদা খাওয়া হয়।

লিবিয়া ও উত্তর আফ্রিকার কিছু দেশেও আসিদা নামের খাওয়া হয়। তবে মরক্কোর আসিদার সঙ্গে এর ভিন্নতা রয়েছে। এটি তৈরি হয় গমের আটা এবং মধু দিয়ে।
ক্যমবাবুর বা আমবাবুর নামে এক ধরনের ভাজা মিষ্টি রুটি খাওয়া হয় সোমালিয়া এবং জিবুতিতে। এটি দই ও চিনির সঙ্গে পরিবেশন করা হয়।

কেনিয়া এবং উগান্ডাসহ পূর্ব আফ্রিকার দেশগুলোতে ঈদের দিন পরিবেশন করা হয় পিলাও। মাংসের স্টু বা ঝোলের মধ্যে রান্না করা চালের একটি সুস্বাদু পদ এটি।


