দুদকের মামলায় স্বাস্থ্যখাতের আলোচিত ঠিকাদার মিঠু কারাগারে

দুদকের মামলায় স্বাস্থ্যখাতের আলোচিত ঠিকাদার মিঠু কারাগারে
আদালত থেকে কারাগারে নেওয়া হয় স্বাস্থ্যখাতের আলোচিত ঠিকাদার মোতাজ্জেরুল ইসলাম মিঠুকে। ছবি: টাইমস
Advertisement
Advertisement

অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে দুদকের করা মামলায় স্বাস্থ্যখাতের আলোচিত ঠিকাদার মোতাজ্জেরুল ইসলাম মিঠুকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছে আদালত।

বৃহস্পতিবার বিকালে শুনানি শেষে ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতের ভারপ্রাপ্ত বিচারক ইব্রাহিম মিয়া এই আদেশ দেন। একই সঙ্গে রিমান্ড ও জামিন বিষয়ে শুনানির জন্য আগামী ১৮ সেপ্টেম্বর তারিখ ঠিক করে দেন।

আসামিপক্ষের আইনজীবী মো. শফিকুল ইসলাম এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিনি বলেন, ‘মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা আসামিকে আদালতে হাজির করে জিজ্ঞাসাবাদ করার জন্য সাত দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন৷ আমরা আসামির পক্ষে রিমান্ড বাতিল করে জামিনের আবেদন করি। দুই পক্ষের শুনানি শেষে আদালত তাকে কারাগারে পাঠিয়ে আগামী ১৮ সেপ্টেম্বর রিমান্ড ও জামিন শুনানির জন্য তারিখ ধার্য করেন।’

রিমান্ড আবেদনে বলা হয়, মোতাজ্জেরুল ইসলাম অসৎ উদ্দেশ্যে নিজে আর্থিকভাবে লাভবান হওয়ার জন্য অবৈধ উপায়ে জ্ঞাত আয়ের উৎসের সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ ৭৫ কোটি ৮০ লাখ ৭৭ হাজার টাকা মূল্যের স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ অর্জন করেছেন এবং তা ভোগ করেছেন। এজন্য তার বিরুদ্ধে মামলা করেছে দুদক। এছাড়া তার বিরুদ্ধে সিন্ডিকেট করে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে স্বাস্থ্য খাতে বিভিন্ন মালামাল সরবরাহ ও উন্নয়ন কাজের নামে প্রভাব বিস্তার করার অভিযোগ রয়েছে। পাশাপাশি দেশে এবং দেশের বাইরে  নিজ ও পরিবারের সদস্যদের নামে অর্থ পাচারের অভিযোগেরও তদন্ত চলছে।

আরও পড়ুন

এসব বিষয়ে নিবিড়ভাবে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমান্ডে নেওয়া প্রয়োজন।

এর আগে বুধবার রাতে নিউমার্কেট থানা এলাকা থেকে মোতাজ্জেরুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। এরপর তাকে দুদকে হস্তান্তর করা হয়।

দুদকের অনুসন্ধান প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, লেক্সিকোন মার্চেন্ডাইস ও টেকনোক্রেট নামের দুটি প্রতিষ্ঠানের মালিক আসামি মিঠু কৃষিজমি ক্রয়, জমি লিজ, প্লট, ফ্ল্যাট ও বাড়ি নির্মাণে মোট ১৮ কোটি ৪০ লাখ ৫১ হাজার টাকার স্থাবর সম্পদ অর্জন করেছেন। এছাড়া বিভিন্ন কোম্পানিতে শেয়ার ও বিনিয়োগ, গাড়ি ক্রয়, ব্যাংক হিসাবের স্থিতি, স্বর্ণালংকার, আসবাবপত্র ও ইলেকট্রনিক সামগ্রী মিলিয়ে আরও ৫৭ কোটি ৪৪ লাখ টাকার অস্থাবর সম্পদ তার নামে পাওয়া গেছে।

স্থাবর ও অস্থাবর মিলিয়ে সম্পদের মোট মূল্য দাঁড়িয়েছে প্রায় ৭৫ কোটি ৮৫ লাখ টাকা।

এছাড়া মিঠুর নামে পারিবারিক ব্যয় ধরা হয়েছে ৭১ কোটি ৪৫ লাখ টাকা। অর্থাৎ সম্পদ ও ব্যয়সহ তার মোট সম্পদের হিসাব দাঁড়িয়েছে প্রায় ১৪৭ কোটি ৩০ লাখ টাকা। অন্যদিকে অনুসন্ধানে বৈধ উৎস পাওয়া গেছে ৭১ কোটি ৪৯ লাখ টাকার। অর্থাৎ বৈধ আয়ের সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণভাবে ৭৫ কোটি ৮০ টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের প্রমাণ পাওয়া গেছে।

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর
Ad