জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) করা মামলায় সাবেক সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী ও অভিনেতা আসাদুজ্জামান নূরের জামিন নামঞ্জুর করেছে আদালত।
রোববার রাষ্ট্র ও আসামিপক্ষের শুনানি শেষে এ আদেশ দেন ঢাকা মহানগর জ্যেষ্ঠ বিশেষ জজ সাব্বির ফয়েজ।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী আজিজুল হক দিদার বিষয়টি জানিয়েছেন।
এর আগে, ৩০ জুলাই ঢাকা সমন্বিত জেলা কার্যালয়ে দুদকের উপপরিচালক মোহাম্মদ আজিজুল হক বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন।
মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, আসাদুজ্জামান নূর ক্ষমতার অপব্যবহার করে ৫ কোটি ৩৭ লাখ ১ হাজার ১৯০ টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন করেছেন এবং তা নিজের দখলে রেখেছেন। এছাড়া আসাদুজ্জামান নূরের নামে থাকা বিভিন্ন ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ১৯টি হিসাবে ১৫৮ কোটি ৭৮ লাখ ৪৭ হাজার ৮৯৮ টাকার সন্দেহজনক লেনদেন হয়েছে। এই লেনদেনের মাধ্যমে অর্থ স্থানান্তর, রূপান্তর ও হস্তান্তরের অভিযোগ আনা হয়েছে। যা মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন ও দুদক আইনে শাস্তিযোগ্য অপরাধ।
পরবর্তীতে ১৫ সেপ্টেম্বর রাতে রাজধানীর বেইলী রোডে নিজ বাসা থেকে আসাদুজ্জামান নূরকে গ্রেপ্তার করা হয়। একইদিন এ মামলায় আসাদুজ্জামান নূরের চারটি ফ্ল্যাট ও ১০ কাঠা জমি জব্দ করার আদেশ দেন আদালত। একই সঙ্গে তার নামে থাকা ১৬টি ব্যাংক হিসাবও অবরুদ্ধ করার আদেশ দেওয়া হয়।
২২ সেপ্টেম্বর এ মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। পরে জামিন শুনানির জন্য রোববারের দিন ধার্য করে আদালত।
২০০১ সালে নীলফামারী-২ আসন থেকে আওয়ামী লীগের মনোনয়নে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন আসাদুজ্জামান নূর। এরপর ২০০৮, ২০১৪, ২০১৮ ও সর্বশেষ ২০২৪ সালের দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও নির্বাচিত হন তিনি। ২০১৪ সালে দশম সংসদ নির্বাচনের পর সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রীর দায়িত্ব পান আসাদুজ্জামান নূর।


