প্রায় তিন সপ্তাহ ধরে নিখোঁজ রয়েছেন সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের সহকারী নিরাপত্তা কর্মকর্তা মো. আরিফুল্লাহ জেলিন (২৬)। এ ঘটনায় থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হলেও এখনো তার কোনো সন্ধান মেলেনি।
নিখোঁজ জেলিনের বাড়ি ঠাকুরগাঁওয়ের হরিপুর উপজেলার শীতলপুর গ্রামে। ছেলের সন্ধানের দাবিতে শনিবার সিলেটের একটি অভিজাত হোটেলে সংবাদ সম্মেলন করেন তার মা ফরিদা ইয়াসমীন।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি অভিযোগ করেন, থানায় করা জিডির তথ্যের সঙ্গে তার জানা ঘটনার অসংগতি রয়েছে। বিষয়টি গভীরভাবে তদন্তের দাবি জানান তিনি।
ফরিদা ইয়াসমীন বলেন, গত ৮ জুলাই সিলেটের এয়ারপোর্ট থানাধীন খাদিমনগর ইউনিয়নের বিমানবন্দর আবাসিক এলাকার জি-টাইপ কোয়ার্টার থেকে আরিফুল্লাহ জেলিন নিখোঁজ হন। এরপর সম্ভাব্য সব স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।
তিনি জানান, তারা ঠাকুরগাঁও থেকে সিলেটে পৌঁছানোর আগেই জেলিনের সহকর্মী ও বন্ধু পরিচয়ে ধনঞ্জয় কুণ্ডু (পিয়াস) সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের এয়ারপোর্ট থানায় একটি জিডি করেন।
ফরিদা ইয়াসমীন বলেন, ‘আমার ছেলে যেদিন নিখোঁজ হয়, সেদিন বিকাল সাড়ে ৫টা পর্যন্ত তার সঙ্গে ভিডিও কলে কথা হয়েছে। তখন সে বিমানবন্দর আবাসিক কোয়ার্টারেই ছিল। কিন্তু জিডিতে উল্লেখ করা হয়েছে, ৮ জুলাই বিকাল ৩টা ৪৫ মিনিট থেকে রাত ১১টার মধ্যে কোনো এক সময় সে নিখোঁজ হয়েছে। সাড়ে ৫টা পর্যন্ত আমার সঙ্গে কথা বলার পর ৩টা ৪৫ মিনিট থেকে নিখোঁজ হওয়ার কথা কীভাবে বলা হলো, সেই প্রশ্নের উত্তর আমরা এখনো পাইনি।’
তিনি আরও বলেন, ‘এই তথ্যগত অসংগতির কারণে সন্দেহ হচ্ছে, ছেলের নিখোঁজ হওয়ার বিষয়ে কেউ প্রকৃত ঘটনা জানেন। কিন্তু তা গোপন করা হচ্ছে। তাই ওই সময়ে ছেলের সঙ্গে যোগাযোগে থাকা ব্যক্তিদের, বিশেষ করে যিনি জিডি করেছেন, তার বক্তব্যসহ সব তথ্য গুরুত্বের সঙ্গে যাচাই করে ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদঘাটনের দাবি জানাচ্ছি।’
লিখিত বক্তব্যে জেলিনের পরিবারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, আরিফুল্লাহ জেলিনের ব্যক্তিগত জীবনে পরিচিত কোনো শত্রু ছিল না। তবে কর্মস্থলে কোনো সহকর্মী বা ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার সঙ্গে বিরোধ কিংবা অন্য কোনো কারণে তিনি নিখোঁজ হয়ে থাকতে পারেন বলে পরিবারের সন্দেহ। তারা এ ঘটনায় নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্তের দাবি জানান।
এ বিষয়ে জানতে সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের এয়ারপোর্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সহিদুর রহমানের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।
সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের পরিচালক মো. হাফিজ আহমদ বলেন, ‘জেলিন আমাদের সহকর্মী। তিনি নিখোঁজ হওয়ার পরপরই পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানানো হয়েছে। তার পরিবার থেকেও কোনো তথ্য বা ক্লু পেলে সঙ্গে সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে জানানো হচ্ছে। আমরাও চাই, দ্রুত আমাদের সহকর্মী ফিরে আসুক।’


