আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম বলেছেন, ‘প্রতিহিংসাপরায়ণ হয়ে নয়, বরং নিরপেক্ষভাবে মানবতাবিরোধী অপরাদের মামলার বিচার করতে চেষ্টা করছি। ন্যায়বিচারের স্বার্থে তাড়াহুড়া করে বিচার কার্যক্রম শেষ করতে চাই না। প্রয়োজন হলে অতিরিক্ত সময় নিয়ে হলেও নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য বিচার সম্পন্ন করতে চাই।‘
শনিবার ঢাকা ক্লাবে সুপ্রিম কোর্ট রিপোর্টার্স ফোরাম আয়োজিত বার্ষিক সাধারণ সভা-২০২৬ এ আমন্ত্রিত অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
চিফ প্রসিকিউটর বলেন, বর্তমানে আমাদের দুটি ট্রাইব্যুনালে বিচারকাজ চলছে। এরই মধ্যে প্রায় ৩০টি মামলা বিচারাধীন। আরও নতুন মামলা আসছে। তবে একটি মামলা নিষ্পত্তি করতে কমপক্ষে তিন থেকে চার মাস লাগতে পারে। কিছু ক্ষেত্রে আরও কম-বেশি সময়ও লাগে।
তিনি বলেন, ‘স্বাভাবিক গতিতে যেভাবে বিচারকার্য চলার, ঠিক সেভাবেই করছি। যদিও মামলার সংখ্যা প্রতিনিয়তই বাড়ছে। প্রতিবেদনও দাখিল হচ্ছে। তাই এই দুটি ট্রাইব্যুনালের পক্ষে একসময় অতিরিক্ত চাপ পড়ে যাবে। এজন্য ট্রাইব্যুনাল ও প্রসিকিউশন টিম বাড়ানোর প্রয়োজন হতে পারে। বাড়ানো হতে পারে তদন্ত সংস্থার কর্মকর্তাও।’
তিনি বলেন, ‘ট্রাইব্যুনালে কোনো অভিযোগ যাতে প্রতিহিংসামূলক, মিথ্যা বা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত না হয়, সে বিষয়ে প্রসিকিউশন কঠোর অবস্থানে রয়েছে। প্রতিটি অভিযোগ ও মামলার ক্ষেত্রে যথাযথ যাচাই-বাছাই নিশ্চিত করা হচ্ছে। দায়িত্ব গ্রহণের পর আমি পাঁচ থেকে ছয়টি মামলা পুনঃতদন্তের জন্য তদন্ত সংস্থায় ফেরত পাঠিয়েছি।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমার হাত দিয়ে কোনো নিরীহ মানুষ যেন হয়রানির শিকার না হন, আবার কোনো দোষীও যেন রেহাই না পান। আমি চেষ্টা করব, একটি অভিযোগও যেন প্রতিহিংসামূলক বা ভুয়া না হয়। অর্থাৎ এসবে যেন বিতর্কের জন্ম না দেয়। অতএব আমাদের এই বিচার কখনো যেন প্রশ্নবিদ্ধ না হয়- সেভাবেই আমরা দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছি। প্রতিটি অভিযোগ ও মামলার ক্ষেত্রে যথাযথ যাচাই-বাছাই নিশ্চিত করা হচ্ছে।’
সুপ্রিম কোর্ট রিপোর্টার্স ফোরামের সভাপতি মাসউদুর রহমানের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান ডালিমের সঞ্চালনায় এ সময় বক্তব্য রাখেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী শিশির মনিরসহ আরও অনেকে।


