বর্তমান বিশ্বে ডিজিটাল অর্থনীতি ও আউটসোর্সিং শিল্পের গুরুত্ব ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে। এ প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশে আয়োজিত বিপিও সামিট বাংলাদেশ ২০২৫ দেশের তথ্যপ্রযুক্তি ও কর্মসংস্থানের সম্ভাবনাকে আরও এক ধাপ এগিয়ে নিয়েছে।
ঢাকার সেনা প্রাঙ্গণে দুই দিনব্যাপী বিপিও (বিজনেস প্রসেস আউটসোর্সিং) সম্মেলনটি শনিবার শুরু হয়ে রোববার শেষ হবে। এই সামিট আয়োজন করে বাক্কো (বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব কন্টাক্ট সেন্টার অ্যান্ড আউটসোর্সিং), আইসিটি বিভাগ, বিটিআরসি, এবং বাণিজ্য মন্ত্রণালয়।
বিপিও সামিটে প্রধান অতিথি শিল্প মন্ত্রণালয় এবং গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান, ‘বিপিও সামিট কেবল একটি শিল্প সম্মেলন নয়, এটি একটি জাতীয় মঞ্চ যেখানে প্রযুক্তি, দক্ষ মানবসম্পদ এবং ধারাবাহিক চেতনার সম্মেলনে তৈরি হচ্ছে নতুন সম্ভাবনার সেতুবন্ধন’।
আউটসোর্সিং শিল্পে এমন কিছু নতুন প্রযুক্তিগত বা কৌশলগত পরিবর্তন, যা আগের তুলনায় এ খাতকে আরও কার্যকর, প্রতিযোগিতামূলক ও ভবিষ্যতমুখী করে তুলছে।
কোভিড-১৯ এর পরবর্তী সময়ে বিশ্বজুড়ে আউটসোর্সিংয়ে ঘরে বসেই কাজ করার প্রবণতা বৃদ্ধি পেয়েছে। আউটসোর্সড ডেটার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ব্লকচেইন প্রযুক্তির ব্যবহার শুরু হয়েছে। দ্রুত স্কেল আপ/ডাউন সুবিধা দিয়ে কোম্পানিকে নমনীয়তা দিচ্ছে।
মানুষ যা করতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা সময় নেয়, কৃত্তিম বুদ্ধিমত্তা তা মুহূর্তেই করতে পারে। বড় ডেটা বিশ্লেষণ করে তা থেকে অর্থপূর্ণ তথ্য বের করে সিদ্ধান্ত গ্রহণে সহায়তা করে। অনেক প্রতিষ্ঠান এখন কৃত্তিম বুদ্ধিমত্তা চালিত চ্যাটবট ব্যবহার করছে গ্রাহকসেবা দিতে, যা ২৪/৭ চালু থাকে।
এছাড়া, কৃত্তিম বুদ্ধিমত্তা নির্ভর লার্নিং অ্যাপস এখন শিক্ষার্থীদের শেখার অভিজ্ঞতা আরও ব্যক্তিকেন্দ্রিক করছে। এদিকে, দেশগুলোর প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা এখন অনেকটাই নির্ভর করছে তারা কতটা সফলভাবে কৃত্তিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তি গ্রহণ করছে তার ওপর।
অনুষ্ঠানের সভাপতি শীষ হায়দার চৌধুরী বলেন, ‘আমরা প্রযুক্তিকে কেবল ফাঁদ হিসেবে দেখিনা একটি আমাদের উন্নয়ন দর্শনের কেন্দ্রবিন্দু। এই সামিট ভবিষ্যতের অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রযুক্তি গড়ে তুলবে’। তিনি জানান, গত ১ মাস আগে নাগরিক সেবা কেন্দ্র চালু হয়েছে যা ইতোমধ্যেই ব্যাপক সাড়া পেয়েছে।
ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, ‘দুই বছরের মধ্যে, যদি আপনি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করতে না পারেন, তাহলে আপনার ব্যবসা বন্ধ হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা আছে। ডিজিটাল ট্রান্সফর্মের কোনো বিকল্প নেই।’
বাক্কো সাধারণ সম্পাদক ফয়সল আলিম বলেন, ‘স্কিল ডেভেলপমেন্ট ব্যাপক সারা ফেলবে তরুণ আর ফ্রিল্যান্সার দের জন্য’। তাছাড়া, ইনসেন্টিভ কল সেন্টার এর ব্যবস্থার কথাও জানান তিনি।
সম্মেলনটিতে আরো উপস্থিত ছিলেন বাক্কো সভাপতি তানভীর ইব্রাহিম, বিশেষ অতিথি আবু সাঈদ এবং বাক্কো এর অন্যান্য সদস্য।
এবারের বিপিও সামিটে থাকছে ৯টি আন্তর্জাতিক মানের সেমিনার ও ওয়ারকশপ, একটি চাকরি মেলা, উদ্যোক্তা বিষয়ক বিশেষ অধিবেশন, ফ্রিল্যান্সার প্লাটফর্ম এবং দেশি ও বিদেশি প্রযুক্তি ও বিপিও প্রতিষ্ঠানের অংশগ্রহণে বৃহৎ পণ্য ও সেবা প্রদর্শনী।


