কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার বাহারছড়া থেকে পাচারের জন্য বন্দী রাখা নারী ও শিশুসহ ২৮ জনকে উদ্ধার করেছে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড ও পুলিশ।
মঙ্গলবার দুপুরে কোস্ট গার্ড মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সিয়াম-উল-হক এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
তিনি জানান, গোয়েন্দা সূত্রে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, সাগরপথে মালয়েশিয়া যাওয়ার উদ্দেশে বিপুলসংখ্যক মানুষ টেকনাফের বাহারছড়ার কচ্ছপিয়া ঘাট সংলগ্ন বিচ এলাকায় অবস্থান করছিল। সোমবার মধ্যরাতে কোস্ট গার্ড ও পুলিশের যৌথ অভিযানে সৈকতে অবস্থানরত ২৮ জনকে উদ্ধার করা হয়।
উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিরা জানান, কয়েকটি সংঘবদ্ধ পাচারকারী চক্র উন্নত জীবনযাপনের স্বপ্ন, উচ্চ বেতনের চাকরি এবং কম খরচে বিদেশ যাত্রার প্রলোভন দেখিয়ে দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে বাংলাদেশি ও রোহিঙ্গা নাগরিকদের মালয়েশিয়ায় পাচারের পরিকল্পনা করছিল।
অভিযানের সময় যৌথ বাহিনীর উপস্থিতি টের পেয়ে পাচারকারীরা পালিয়ে যায়। তাদের গ্রেপ্তারের জন্য কোস্ট গার্ডের অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানান লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সিয়াম-উল-হক।
তিনি আরও জানান, মানবপাচার রোধে কোস্ট গার্ডের এ ধরনের অভিযান নিয়মিতভাবে পরিচালিত হচ্ছে।
এর আগে, গত ১৭ নভেম্বর টেকনাফে সাগরপথে মালয়েশিয়া পাচারের সময় অভিযান চালিয়ে আট রোহিঙ্গাকে উদ্ধার করে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। একই সঙ্গে মানব পাচারকারী চক্রের চার নারী সদস্যকে আটক করা হয়।
টেকনাফ থানার তথ্যমতে, গত দুই মাসে র্যাব, পুলিশ, কোস্ট গার্ড, নৌবাহিনী ও বিজিবির যৌথ অভিযানে টেকনাফ সীমান্তের পাহাড়ি ও উপকূলীয় এলাকা থেকে পাচারের জন্য আনা ৫১৭ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে। এ সময় মানবপাচার সিন্ডিকেটের ৫৭ সদস্যকেও আটক করা হয়।


