টাইমস অব বাংলাদেশে সংবাদ প্রচারের পর মানবেতর জীবনযাপন করা মনিরা খাতুন ও তার ভিন্ন বর্ণের শিশুকন্যা আফিয়ার সহায়তায় এগিয়ে এসেছেন বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান। তারই ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান পরিবারটির দায়িত্ব নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন।
বসতঘর নির্মাণ করে দেওয়া এবং শিশু আফিয়ার পড়াশোনার পূর্ণ দায়িত্ব নেওয়ার পাশাপাশি পরিবারটির দেখভালের দায়িত্বও দেওয়া হয়েছে যশোর জেলা বিএনপিকে।
শুক্রবার সকালে দলটির খুলনা বিভাগীয় ভারপ্রাপ্ত সাংগঠনিক সম্পাদক অনিন্দ্য ইসলাম অমিত উপহার হিসেবে আর্থিক ও মানবিক সহায়তা পরিবারটির হাতে পৌঁছে দেন।
গত ১০ নভেম্বর টাইমস অনলাইনে ‘সন্তানের গায়ের রঙ ভিন্ন হওয়ায় স্ত্রীকে তালাকের অভিযোগ’ শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। প্রতিবেদনটি ভাইরাল হলে বিষয়টি নজরে আসে রাজনৈতিক, সামাজিক ও সরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের।
অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, ‘টাইমসে সংবাদ প্রকাশের পরই বিষয়টি আমাদের নজরে আসে। পরে বিএনপির তারেক রহমান পরিবারটির দায়িত্ব গ্রহণের নির্দেশ দেন।’
তিনি আরও যোগ করেন, ‘মনিরার থাকার মতো কোনো আবাসস্থল নেই। তাই একটি ঘর নির্মাণসহ আফিয়ার শিক্ষার ব্যয়ভার দলীয়ভাবে বহন করা হবে।’
এদিকে পরিবারটিকে আইনি ও নাগরিক সহযোগিতা দিতে কাজ শুরু করেছে যশোর জেলা প্রশাসন। একই সঙ্গে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান, সংগঠন ও সাধারণ মানুষও সহায়তায় হাত বাড়িয়েছেন।
যশোর সদর উপজেলার বাউলিয়া চাঁদপাড়া গ্রামের মোজাফফর হোসেনের সঙ্গে ২০২০ সালে পারিবারিকভাবে বিয়ে হয় কুয়াদা বাজুয়াডাঙ্গা গ্রামের মনিরা খাতুনের।
২০২২ সালের ১৩ নভেম্বর তাদের ঘর আলো করে আসে কন্যাশিশু আফিয়া। শিশুটি জন্মানোর পর দেখা যায় তার বর্ণ ভিন্ন, যা কেন্দ্র করে শুরু হয় অশান্তি।
স্বামী অভিযোগ তোলেন, সন্তান তার নয়–এ অভিযোগে মনিরাকে তালাক দেন মোজাফফর। নবজাতককে ফেলে তিনি প্রবাসে চলে যান। এরপর থেকে মা ও শিশুর দিন কাটছিল চরম দারিদ্রে।
টাইমসে প্রকাশিত সেই প্রতিবেদন নজরে আসার পর দেশের নানা স্তরের মানুষের সহায়তায় এখন নতুনভাবে বাঁচার পথ পাচ্ছেন মনিরা ও ছোট্ট আফিয়া।


