জ্বালানি তেলের সংকটে ঝালকাঠিতে কৃষিকাজ ব্যাহত হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন কৃষকরা। প্রয়োজন অনুযায়ী ডিজেল ও পেট্রোল না পাওয়ায় ট্রাক্টর, সেচযন্ত্র, পাওয়ার পাম্প ও ধান কাটার যন্ত্র চালাতে পারছেন না তারা।
কৃষকরা জানিয়েছেন, সংকটের কারণে অনেকেই অতিরিক্ত দামে ডিজেল কিনতে বাধ্য হচ্ছেন। এতে উৎপাদন খরচ বেড়ে যাচ্ছে। কেউ কেউ বেশি খরচের ভয়ে চাষাবাদ বন্ধও রেখেছেন। এ অবস্থা চলতে থাকলে জেলায় চাহিদা অনুযায়ী কৃষি উৎপাদন ব্যাহত হতে পারে বলে আশঙ্কা তাদের।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, এ বছর বোরো আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ১৩ হাজার ৮২৫ হেক্টর জমি। আউশ আবাদ শুরু হয়েছে ১০ হাজার ৪৫ হেক্টরে এবং গ্রীষ্মকালীন সবজি আবাদ হয়েছে ৩ হাজার হেক্টরে। এসব জমিতে সেচের জন্য পর্যাপ্ত পানির প্রয়োজন হলেও ডিজেল সংকটে সেচপাম্প চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে।
আগে পাম্প ও ডিলারদের কাছ থেকে প্রতি লিটার ডিজেল ১০০ টাকায় সহজে পাওয়া গেলেও বর্তমানে সংকটের কারণে একজনকে এক থেকে দুই লিটারের বেশি দেওয়া হচ্ছে না বলে জানিয়েছেন কৃষকরা।
সদর উপজেলার বাসন্ডা এলাকার কৃষক রাজু আহম্মেদ বলেন, ‘জ্বালানি তেলের মারাত্মক সংকট চলছে। দোকানে গিয়ে প্রয়োজনমতো তেল পাওয়া যাচ্ছে না। কোথাও পাওয়া গেলেও লিটারপ্রতি ১০ টাকা বেশি নেওয়া হচ্ছে।’
নলছিটির বারইকরণ গ্রামের কৃষক কাজেম আলী বলেন, ‘সেচের অভাবে জমির মাটি ফেটে যাচ্ছে। কোথাও ডিজেল পাওয়া যাচ্ছে না। বেশি দামে কিনতে হচ্ছে। এভাবে চলতে থাকলে ধান ও চালের দাম বাড়বে।’
তবে ঝালকাঠি কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক আব্দুল্লাহ আল মামুন টাইমস অব বাংলাদেশকে বলেন, সরকারি হিসাবে জেলায় ডিজেলের কোনো সংকট নেই। খুচরা বাজারে কিছুটা প্রভাব থাকতে পারে। কোনো কৃষক ডিজেলের অভাবে চাষাবাদ করতে না পারলে তাদের সহায়তা করা হবে। কেউ বেশি দামে বিক্রি করলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে, জ্বালানি তেলের জন্য প্রতিদিন পেট্রোল পাম্প ও ডিলারদের দোকানে ভিড় করছেন যানবাহন চালকরা। চাহিদা অনুযায়ী তেল দিতে না পারায় অনেকেই বিপাকে পড়ছেন। অভিযোগ রয়েছে, কিছু অসাধু ডিলার বাড়তি লাভের আশায় তেল মজুদ করে কৃত্রিম সংকট তৈরি করেছেন।
জানা গেছে, ঝালকাঠির পদ্মা, মেঘনা ও যমুনা তেল ডিপো থেকে দক্ষিণাঞ্চলের ছয়টি জেলায় প্রতিদিন গড়ে ৪ লাখ লিটার ডিজেল এবং আড়াই লাখ লিটার পেট্রোল সরবরাহ করা হয়।


