জুলাই আন্দোলনের অগ্রদূতদের অংশগ্রহণ ছাড়া জুলাই সনদ অর্থবহ হবে না বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আবদুল মঈন খান। তিনি বলেন, ‘এই সনদকে অর্থবহ করতে হলে জুলাইয়ের অগ্রদূতদেরও অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।’
শুক্রবার জুলাই সনদ স্বাক্ষরকে ঘিরে উদ্ভূত পরিস্থিতি প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ মন্তব্য করেন।
মঈন খান বলেন, ‘জুলাই সনদ নিয়ে অনেকেই হয়তো পুরোপুরি একমত নাও হতে পারেন, তবে সেটি বড় কোনো বিষয় নয়। আসলে আমি মনে করি, বিষয়টি একেবারেই স্বাভাবিক। বাংলাদেশের ১৮ কোটি মানুষ হঠাৎ করে সব বিষয়ে একমত হবে–এমন প্রত্যাশা অবাস্তব।’
বিএনপির এই নেতা আরও বলেন, ‘সত্যি বলতে, যদি তা হতো, তাহলে আমরা আবারও বাকশালের মতো একদলীয় ব্যবস্থায় ফিরে যেতাম।’
সমন্বয়ের দায়িত্বপ্রাপ্তদের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। মঈন খান বলেন, ‘যাদের এই গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে, তারা কি সত্যিই তা পালনে সক্ষম ছিলেন? একই সঙ্গে প্রশ্ন জাগে, অন্তর্বর্তী সরকারের জন্য এমন জটিল উদ্যোগ নেওয়া আদৌ প্রয়োজনীয় ছিল কি না।’
তিনি আরও যোগ করেন, ‘একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে গঠিত নির্বাচিত সরকারের হাতে বিষয়টি ছেড়ে দেওয়াই কি বেশি যৌক্তিক হতো না?’
জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় শুক্রবার বিকালে প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস ও বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ‘জুলাই জাতীয় সনদ ২০২৫’ এ স্বাক্ষর করেন। এ অনুষ্ঠানে অংশ নেয় ৩০টি রাজনৈতিক দল ও জোটের প্রতিনিধিরা।
এর আগে, বেলা দেড়টার দিকে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় জুলাই সনদ সই অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে ‘রণক্ষেত্র’ সৃষ্টি হয়। পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়ান ‘জুলাই যোদ্ধারা’। তাদের মানিক মিয়া এভিনিউ থেকে সরিয়ে দিতে লাঠিচার্জ করে পুলিশ, ছোড়ে সাউন্ড গ্রেনেডও।
জবাবে পুলিশকে লক্ষ্য করে ইট-পাটকেল ছোড়েন বিক্ষোভকারীরা। এসময় বেশ কয়েকজন আহন হন, আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয় সনদ সই অনুষ্ঠান উপলক্ষ্যে তৈরি করা তাঁবুসহ বিভিন্ন সরঞ্জামে। এক ঘণ্টার বেশি সময় ধরে চলে পাল্টাপাল্টি ধাওয়া, লাঠিচার্জ, ইট-পাটকেল নিক্ষেপ। পরে বেলা পৌনে ৩টার দিকে পুরো এলাকার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয় পুলিশ। সংসদ ভবন এলাকার নিরাপত্তা নিশ্চিতে মোতায়েন করা হয় সেনাবাহিনী।
সংঘর্ষের ওই ঘটনায় আহত হন প্রায় অর্ধশত। এদের মধ্যে বেশ কয়েকজন ‘জুলাই যোদ্ধা’ ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নেন।


