বগুড়ায় তিন বছর ধরে আটকে থাকা কঙ্গো প্রজাতন্ত্রের নাগরিক ভিটো বলি বোঙ্গেঙ্গের বিষয়ে নতুন তথ্য এসেছে। প্রথমে খবর প্রকাশিত হয়েছিল, তিনি জিম্মি রয়েছেন, কিন্তু পুলিশ ও স্থানীয়দের বক্তব্য অনুযায়ী, ভিসা জটিলতা এবং আর্থিক লেনদেনের কারণেই তিনি বগুড়ায় আটকে আছেন।
বগুড়া সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হাসান বাসির বলেন, ‘ভিটো বলি তার ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পর এখানেই আটকে আছেন এবং তার জীবনযাপন স্বাভাবিকভাবে চলছে। তিনি নিজে ঘুরে বেড়াচ্ছেন এবং স্থানীয় দোকানদারদের সঙ্গে কথা বলছেন।’
এলাকার দোকানি ও অটোরিকশা চালক আবু সাইদ বলেন, ‘ভিটো বলি এলাকায় পরিচিত হয়ে উঠেছেন এবং নিয়মিত শহরের বাজারঘাটে যাতায়াত করেন। কখনো মনে হয়নি তিনি জিম্মি রয়েছেন।’
গোকুল পশ্চিমপাড়া গ্রামের পাখি ব্যবসায়ী আতিকুর রহমান পলাশের সঙ্গে ব্যবসায়িক সম্পর্কের সূত্রে ভিটোর এখানে আসা। পলাশ জানান, ভিটো তার পাসপোর্টসহ অন্যান্য কাগজপত্র আটকে রেখেছিলেন, কিন্তু তার জীবনযাপনে কোনো বাধা ছিল না।
এদিকে, ১৮ সেপ্টেম্বর বগুড়া সদর থানায় ভিটো বলির অভিযোগের পর, মিডিয়ায় খবরটি ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। ভিটো বলেছিলেন, পলাশ তাকে জিম্মি করে রেখেছেন এবং তাকে তার পরিবারের কাছে ফিরে যাওয়ার সুযোগ দেওয়া হচ্ছে না। তবে পলাশের স্ত্রী জান্নাতি আক্তার অভিযোগ করেছেন, ভিটো খুবই বিলাসী জীবনযাপন করছেন এবং তার খরচ বহন করতে তাদের কষ্ট হচ্ছে।
স্থানীয়রা জানান, ভিটো প্রায়ই বাইরে ঘুরে বেড়ান এবং স্থানীয়দের সঙ্গে আড্ডা দেন। একাধিক প্রতিবেশী জানাচ্ছেন, তারা কখনো তাকে বন্দি অবস্থায় দেখেননি। পলাশের চাচাতো ভাই শফিক আহমেদ বলেন, ‘ভিটো আমাদের সাথেই চলাফেরা করেন এবং কখনো বন্দি অবস্থায় ছিলেন না।’
বগুড়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) হুসেইন মোহাম্মদ রায়হান জানিয়েছেন, ভিটো এখন অবৈধ অভিবাসী। কারণ, তার ভিসার মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে। তিনি বলেন, ‘বিষয়টি মূলত ব্যবসায়িক দ্বন্দ্বের ফলস্বরূপ ঘটেছে। পলাশের সঙ্গে তার ব্যবসায়িক চুক্তি নিয়ে সমস্যা হয়েছে।’
পুলিশ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করে ভিটোকে সেফহোমে পাঠানোর ব্যবস্থা করছে এবং পরবর্তীতে তাকে কঙ্গোতে পাঠানো হবে।


