আধিপত্য বিস্তারের লড়াইকে সাজেকের অবরোধের মূল কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন খাগড়াছড়ির সংসদ সদস্য ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি ওয়াদুদ ভূঁইয়া। তিনি বলেছেন, কার্বারী ও ছাত্র-জনতার নাম ব্যবহার করা হলেও এর পেছনে অন্য উদ্দেশ্য রয়েছে।
রোববার সকালে রাঙ্গামাটি জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সম্মেলনকক্ষে জেলার হেডম্যান ও কার্বারীদের সঙ্গে জরুরি মতবিনিময় সভায় বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ওয়াদুদ ভূঁইয়া বলেন, সাজেকে পর্যটকদের যাতায়াত বন্ধ করা এবং নতুন করে আধিপত্য বিস্তার করা একটি আঞ্চলিক দলকে সরিয়ে দেওয়ার লক্ষ্যেই সড়কে অবরোধ করা হয়েছে বলে তিনি মনে করেন। আগে সাজেক একটি সশস্ত্র আঞ্চলিক দলের নিয়ন্ত্রণে ছিল, এখন সেখানে আরেকটি দল নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করেছে।
তিনি বলেন, নিরাপত্তা বাহিনীকে কোনো একটি সশস্ত্র দলকে সরিয়ে দেওয়ার দাবি জানালেই তা করা যায় না। নিরাপত্তা বাহিনী কোনো দলকে সরিয়ে দিলে সব সশস্ত্র দলকেই সরিয়ে দেবে।
সভায় সাবেক পার্বত্য প্রতিমন্ত্রী ও সংসদ সদস্য দীপেন দেওয়ান বলেন, ‘পাঁচ দফা দাবি জানানো ব্যক্তিরা দৃশ্যমান না হওয়ায় আলোচনায় বসতে সমস্যা হচ্ছে। তবে তারা চাইলে আলোচনায় বসতে তারা প্রস্তুত।’
সাজেকের সমস্যা সমাধানে হেডম্যান ও কার্বারীদের নিয়ে তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, কমিটি সোমবার দাবিদারদের সঙ্গে কথা বলবে। এ কাজে বাঘাইছড়ির উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও সাজেক থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সহযোগিতা করবেন। শিগগিরই সমস্যার সমাধান হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
জেলা প্রশাসক নাজমা আশরাফীর সভাপতিত্বে সভায় পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আব্দুর রকিবসহ জেলার হেডম্যান ও কার্বারীরা উপস্থিত ছিলেন।
এদিকে, পাঁচ দফা দাবি বাস্তবায়নের দাবিতে রাঙ্গামাটির সাজেক পর্যটন সড়কে তৃতীয় দফায় চতুর্থ দিনের মতো অনির্দিষ্টকালের অবরোধ চলছে। রোববার সকাল থেকে মাচালং, হাজাছড়া এবং বাঘাইহাটের ৮ ও ১৪ কিলো এলাকায় টায়ার ও গাছের গুঁড়ি পুড়িয়ে পিকেটিং করেন অবরোধকারীরা।
সাজেক গণ অধিকার রক্ষা কমিটি ও কার্বারী অ্যাসোসিয়েশনের ডাকে এ কর্মসূচি চলছে। কমিটির সদস্যসচিব বিজয় কান্তি চাকমা বলেন, বিভিন্ন স্থানে টায়ার জ্বালিয়ে পিকেটিং করা হয়েছে। দোকানপাট খুলতেও বাধা দেওয়া হয়েছে।
সাজেক থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তোফাজ্জল হোসেন বলেন, সাজেকে শান্তিপূর্ণভাবে অবরোধ চলছে। মাঝেমধ্যে দু-একটি মোটরসাইকেল চলাচল করছে। এখন পর্যন্ত কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি।


