রাঙ্গামাটির সাজেক পর্যটন সড়কে পাঁচ দফা দাবি বাস্তবায়নের দাবিতে তৃতীয় দফায় চতুর্থ দিনের মতো অনির্দিষ্টকালের অবরোধ চলছে।
রোববার সকাল থেকে সাজেকের মাচালং, হাজাছড়া, বাঘাইহাটের ৮ ও ১৪ কিলোসহ বিভিন্ন স্থানে টায়ার ও গাছের গুঁড়ি পুড়িয়ে পিকেটিং করেন অবরোধকারীরা।
সাজেক গণ অধিকার রক্ষা কমিটি ও কার্বারী অ্যাসোসিয়েশনের ডাকে এ কর্মসূচি পালিত হচ্ছে। কমিটির সদস্যসচিব বিজয় কান্তি চাকমা বলেন, সকালে বিভিন্ন স্থানে টায়ার জ্বালিয়ে পিকেটিং করা হয়েছে। দোকানপাট খুলতেও বাধা দেওয়া হয়েছে।
পাঁচ দফা দাবির মধ্যে রয়েছে, গত ২২ অক্টোবর ২০২৬ শান্তিপূর্ণ অবরোধকারীদের উপর বিনা উস্কানিতে হামলার সাথে জড়িতদের শাস্তি দিতে হবে এবং গোলাগুলির মিথ্যা নাটক সাজিয়ে ৩০ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত ১০০০ জনের নামে করা মামলা সম্পূর্ণ প্রত্যাহার করতে হবে ও ঘটনার নিরপেক্ষ বিচার বিভাগীয় তদন্ত করতে হবে, উজো বাজারের স্থানীয় দোকান ব্যবসায়ীদের দোকানপাট ভাঙচুর ও লুটপাটের কারণে যে ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে তার যথাযথ ক্ষতিপূরণ দিতে হবে এবং উজোবাজার থেকে সেনা ও পুলিশ বাহিনীর সদস্যদেরকে সরিয়ে নিতে হবে, সেনাবাহিনী কর্তৃক যে সকল নারী-পুরুষকে মারধর করে আহত করা হয়েছে তাদের সম্পূর্ণ চিকিৎসাব্যয় বহন করতে হবে, সেনাবাহিনীর সহযোগিতায় জেএসএস সন্তু লারমা গ্রুপের সশস্ত্র সদস্যদেরকে সাজেক থেকে অতি দ্রুত সরিয়ে নিতে হবে এবং তাদের সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও জুলুম বন্ধ করতে হবে, আন্দোলনরত নেতাকর্মীদের সন্ত্রাসী তকমা লাগিয়ে গ্রেপ্তার, হয়রানি ও তাদের বাড়িঘর ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে তল্লাশি করা যাবে না।
এদিকে, সাজেকের সমস্যা সমাধানে রোববার সকাল ১০টা থেকে রাঙামাটি জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সম্মেলনকক্ষে জরুরি মতবিনিময় সভা চলছে। জেলা প্রশাসক নাজমা আশরাফীর সভাপতিত্বে সভায় জেলার হেডম্যান ও কার্বারীদের সঙ্গে অংশ নেন খাগড়াছড়ির সংসদ সদস্য ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি ওয়াদুদ ভূঁইয়া এবং সাবেক প্রতিমন্ত্রী দীপেন দেওয়ান। সভা শেষে সিদ্ধান্তের বিষয়ে সাংবাদিকদের জানানো হবে।
সাজেক থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তোফাজ্জল হোসেন বলেন, সাজেকে শান্তিপূর্ণভাবে অবরোধ চলছে। মাঝেমধ্যে দু-একটি মোটরসাইকেল চলাচল করছে। এখন পর্যন্ত কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি।


