জন্মদিন উদযাপন করতে চট্টগ্রাম থেকে ঢাকায় এসে প্রাণ হারানো শিহাব উদ্দিন মালেক সাগর হত্যা মামলার প্রধান আসামি মাহজাবিন ইসলাম রিয়ার জামিন বাতিল ও গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছে তার পরিবার। তাদের অভিযোগ, সাগরকে পরিকল্পিতভাবে ফাঁদে ফেলে হত্যা করা হয়েছে।
রোববার ঢাকার জাতীয় প্রেস ক্লাবের তোফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব দাবি জানানো হয়।
পরিবারের দাবি, গত ২০ আগস্ট রাজধানীর ভাটারা এলাকার একটি অ্যাপার্টমেন্ট থেকে সাগরের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় ২৫ আগস্ট ভাটারা থানায় হত্যা মামলা করেন পরিবারের সদস্যরা। ঘটনার দুই মাসের মধ্যে মামলার প্রধান আসামি হাইকোর্ট থেকে জামিন পাওয়ায় তদন্তের নিরপেক্ষতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে পরিবার।
পরিবারের ভাষ্য, ঢাকায় পাখির ব্যবসা করতেন সাগর। এ সময় রিয়ার সঙ্গে তার পরিচয় হয় এবং প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। সাগর বিয়ের প্রস্তাব দিলেও রিয়া রাজি হননি। পরে সাগর চট্টগ্রামে ফিরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।
পরিবারের দাবি, ১৯ আগস্ট রিয়ার আমন্ত্রণে জন্মদিন উদযাপন করতে ঢাকায় আসেন সাগর। পরদিন তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। চট্টগ্রামে ফেরার জন্য ২১ আগস্ট বিকালের ফ্লাইটের টিকিটও কেটেছিলেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওর প্রসঙ্গ তুলে পরিবারের পক্ষ থেকে বলা হয়, এতে রিয়াকে বঁটি হাতে সাগরকে হত্যার হুমকি দিতে দেখা যায়।
মরদেহ উদ্ধারের সময় অ্যাপার্টমেন্টের তত্ত্বাবধায়ক মুসা ও এক অজ্ঞাতপরিচয় নারী উপস্থিত ছিলেন বলেও পুলিশের বরাত দিয়ে দাবি করেছে পরিবার। তবে এসব তথ্যের স্বাধীন যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
সাগরের ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনেও গরমিল রয়েছে বলে দাবি করেছে পরিবার। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নির্ধারণে ময়নাতদন্ত ও ফরেনসিক প্রতিবেদন পর্যালোচনা, ঘটনাস্থলের আলামত পরীক্ষা এবং সাগরের ফোনকল ও বার্তার তথ্য বিশ্লেষণের দাবি জানিয়েছে তারা। ঘটনার সময় অ্যাপার্টমেন্টে উপস্থিত ব্যক্তিদের ভূমিকা তদন্ত করে দেখারও আহ্বান জানিয়েছে পরিবার।
একই সঙ্গে মামলাটি পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনে (পিবিআই) হস্তান্তর, নিরপেক্ষ তদন্ত ও সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে তারা। পরিবারের আশঙ্কা, প্রধান আসামি জামিনে থাকায় তদন্তে প্রভাব বিস্তার বা গুরুত্বপূর্ণ আলামত নষ্ট হতে পারে। তাই তাকে গ্রেপ্তার করে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন ও বিচার নিশ্চিতের দাবি জানিয়েছে পরিবার।


