জামালপুর অর্থনৈতিক অঞ্চলে প্রায় ১০ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগে একটি আধুনিক ডেনিম পণ্য উৎপাদন কারখানা স্থাপন করতে যাচ্ছে রোজিন এক্সপোর্টস লিমিটেড, যেখানে প্রায় ৮০০ মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে।
বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেজা) এবং রোজিন এক্সপোর্টস লিমিটেডের মধ্যে এ লক্ষ্যে ভূমি লিজ চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে বলে বুধবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।
চুক্তি অনুযায়ী, জামালপুর অর্থনৈতিক অঞ্চলে ৫ একর জমিতে কারখানাটি স্থাপন করবে প্রতিষ্ঠানটি, যেখানে বিভিন্ন ধরনের ডেনিম পণ্য উৎপাদনের পরিকল্পনা রয়েছে।
২০০৫ সালে প্রতিষ্ঠিত রোজিন এক্সপোর্টস লিমিটেড বর্তমানে নিট গার্মেন্টস পণ্য উৎপাদন ও রপ্তানির সঙ্গে যুক্ত এবং জামালপুর জেলায় প্রতিষ্ঠানটির আরেকটি শিল্প কারখানা রয়েছে। সব মিলিয়ে প্রতিষ্ঠানটিতে প্রায় ১০ হাজার কর্মী কাজ করছেন।
জামালপুর অর্থনৈতিক অঞ্চলে দেশীয় শিল্পগোষ্ঠীর এ ধরনের বিনিয়োগ রপ্তানি আয় বৃদ্ধি ও প্রযুক্তিনির্ভর শিল্পায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে, বলেন বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ নির্বাহী সদস্য (বিনিয়োগ উন্নয়ন) সালেহ আহমদ।
তিনি বলেন, বেজা বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করে শিল্প স্থাপনে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহায়তা অব্যাহত রাখবে এবং দ্রুত শিল্প প্রতিষ্ঠান স্থাপনের আহ্বান জানান।
বেজার সহযোগিতায় জামালপুর অর্থনৈতিক অঞ্চলে একটি আধুনিক ও পরিবেশবান্ধব শিল্প প্রতিষ্ঠান স্থাপনের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে, বলেন রোজিন এক্সপোর্টস লিমিটেড ব্যবস্থাপনা পরিচালক এস এম শাহিনুজ্জামান।
তিনি বলেন, জামালপুরে ইতোমধ্যে নিট শিল্পে দক্ষ জনশক্তি তৈরিতে তার প্রতিষ্ঠান কাজ করছে।
চুক্তিতে বেজার পক্ষে সরকারের অতিরিক্ত সচিব এবং নির্বাহী সদস্য (বিনিয়োগ উন্নয়ন) সালেহ আহমদ এবং রোজিন এক্সপোর্টস লিমিটেড ব্যবস্থাপনা পরিচালক এস এম শাহিনুজ্জামান স্বাক্ষর করেন।
জামালপুর অর্থনৈতিক অঞ্চল ময়মনসিংহ বিভাগের প্রথম বাস্তবায়নাধীন সরকারি অর্থনৈতিক অঞ্চল, যার প্রস্তাবিত আয়তন প্রায় ৪৩৬ একর।
জোনটি পুরোপুরি বাস্তবায়িত হলে প্রায় ৩২ হাজার মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে। এ অঞ্চলে কৃষিভিত্তিক শিল্প, লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং এবং গার্মেন্টসসহ বিভিন্ন শিল্প স্থাপনের উপযোগী অবকাঠামো গড়ে তোলা হয়েছে।
জোনটিতে গ্যাস সংযোগ লাইন, ৩৩/১১ কেভিএ বিদ্যুৎ সাবস্টেশন, প্রশাসনিক ও ডরমেটরি ভবন, ভূমি উন্নয়ন, গ্রাউন্ড ওয়াটার রিজার্ভার এবং বাউন্ডারি ওয়াল নির্মাণকাজ ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে।
এ পর্যন্ত প্রায় ২০টি শিল্প প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে লিজ চুক্তি স্বাক্ষর করেছে বেজা, যার মধ্যে তিনটি প্রতিষ্ঠান শিগগির উৎপাদন কার্যক্রম শুরু করবে এবং আরও ৯টি শিল্প প্রতিষ্ঠান বর্তমানে নির্মাণাধীন রয়েছে।


