জাতীয় সরকার গঠনে জামায়াতে ইসলামীর দেওয়া প্রস্তাব নাকচ করেছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। দল এককভাবে সরকার গঠন করবে বলে আত্মবিশ্বাসও প্রকাশ করেন তিনি।
ঢাকায় ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তারেক রহমান একথা বলেন।
২০০১-২০০৬ সালের সময়ে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামী একসঙ্গে সরকার পরিচালনা করেছিল। এবারও জাতীয় নির্বাচনের পর ঐক্য সরকার গঠনের ক্ষেত্রে আবারও বিএনপির অংশীদার হওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছে জামায়াত।
সেই প্রসঙ্গে করা প্রশ্নে রয়টার্সকে তারেক রহমান বলেন, ‘রাজনৈতিক প্রতিপক্ষদের সঙ্গে কীভাবে সরকার গঠন করব? তাহলে বিরোধী দলে কে থাকবে?’
জামায়াতে ইসলামীর বিষয়ে তিনি বলেন, ‘জানি না তারা ঠিক কতগুলো আসন পাবে। তবে যদি তারা বিরোধী দলে থাকে, তাহলে আশা করি, ভালো বিরোধী দল হিসেবে তারা ভূমিকা রাখবে।’
আগামী নির্বাচনে সংসদের ৩০০ আসনের মধ্যে দুই-তৃতীয়াংশের বেশি আসনে বিএনপি জয়ী হবে বলে আত্মবিশ্বাসী তারেক তারেক রহমানের মিত্ররা। মোট ২৯২টি আসনে প্রার্থী দিয়েছে বিএনপি। বাকি আসনগুলোতে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে দলের জোটসঙ্গীরা।
যদিও সঠিক সংখ্যা বলতে নারাজ তারেক রহমান। তার মতে, ‘সরকার গঠনের জন্য যথেষ্ট আসন পাব বলে আমরা আশাবাদী।’
সবগুলো জনমত জরিপেই বিএনপির জয়ের পূর্বাভাস দেওয়া হচ্ছে। সেই সঙ্গে জামায়াতের নেতৃত্বাধীন জোটের কাছ থেকে কঠিন চ্যালেঞ্জের কথাও বলা হয়েছে। ওই জোটে রয়েছে জেনজির একটি দলও। যাদের নেতৃত্বে পতন হয় সাবেক শেখ হাসিনা সরকারের।
বৈশ্বিক সম্পর্ক
২০২৪ এর গণআন্দোলনের মুখে পতনের পর ভারতে আশ্রয় নেয় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তার বেশ প্রভাব পড়ে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কে।
ভারতের কাছ থেকে সরে গিয়ে চীনের দিকে ঝুঁকবেন কি না—এমন প্রশ্নে তারেক রহমান বলেন, প্রায় ১৭ কোটি ৫০ লাখ মানুষের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করতে সক্ষম এমন অংশীদার বাংলাদেশের প্রয়োজন।
তিনি বলেন, ‘যদি আমরা সরকারে আসি, তাহলে তরুণদের জন্য কর্মসংস্থান তৈরি করতে হবে। দেশে ব্যবসা আনতে হবে, যাতে কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয় এবং মানুষ ভালো জীবন পায়।’
তিনি আরও বলেন, ‘বাংলাদেশের স্বার্থ ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা করে যারা আমাদের জনগণ ও দেশের জন্য উপযুক্ত প্রস্তাব দেবে, তাদের সঙ্গেই আমাদের বন্ধুত্ব হবে। কোনো নির্দিষ্ট দেশের সঙ্গে নয়।’
শেখ হাসিনার সন্তানরা বিদেশ থেকে দেশে ফিরে রাজনীতিতে যুক্ত হতে পারবেন কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তারেক রহমান বলেন, ‘যদি কেউ জনগণের কাছে গ্রহণযোগ্য হয়, যদি মানুষ তাকে স্বাগত জানায়, তাহলে যে কারও রাজনীতি করার অধিকার আছে।’
কথা বলেন রোহিঙ্গা প্রসঙ্গে
দমন-পীড়নের শিকার হয়ে প্রতিবেশি দেশ মিয়ানমার থেকে এদেশে পালিয়ে আসেন রোহিঙ্গারা। ২০১৭ সাল থেকে এ পর্যন্ত প্রায় ১২ লাখ রোহিঙ্গা মুসলিম শরণার্থী বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে।
রোহিঙ্গারা আবার নিজ দেশে ফিরে যাক তা চান বলে জানান তারেক রহমান। তবে কেবল তখনই, যখন পরিস্থিতি নিরাপদ হবে।
তিনি বলেন, ‘আমরা চেষ্টা করব, যাতে তারা নিজেদের ভূমিতে ফিরে যেতে পারে। সেখানে ফিরে যাওয়ার জন্য পরিস্থিতি নিরাপদ হতে হবে। যত দিন নিরাপদ নয়, তত দিন তারা এখানে থাকতে পারে।’


